বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা অনলাইন : দু’দিন ধরে ব্যাপক ক্ষতি করেছে হাতির পাল। বিঘার পর বিঘা জমির ধান নষ্ট। কাঁচা অবস্থায় অনেকে বাড়িতে তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বনদপ্তর হাতির পালকে সরাতে কোন ব্যবস্থা না নেওয়া এবং জমিতে হাতি নামলে দেখা না মেলার অভিযোগ বনদপ্তরের বিরুদ্ধে। এমনই নানা অভিযোগ তুলে শনিবার সকাল ন’টা থেকে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন মেদিনীপুর সদরের চাঁদড়া ও দেপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ। পরে বনকর্তার আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। তবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফের জমিতে হাতির পাল নামলে আবারও অবরোধ বিক্ষোভে সামিল হবেন তারা।
আরও খবরের জন্য ক্লিক করুন… প্রতি মুহূর্তের লাইভ খবরের আপডেট পেতে ফলো করুন বিপ্লবী সব্যসাচী নিউজ
ঝটিতি খবর পেতে আমাদের WhatsApp গ্রুপে জয়েন করুন :
For WhatsApp Group : Click Here

2/4. বনদপ্তর থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫০ টি হাতির একটি পাল ঝাড়গ্রাম থেকে মেদিনীপুর সদরে প্রবেশ করে বৃহস্পতিবার ভোরে। সন্ধ্যা বেলা হাতির পালটি দেপাড়া ও চাঁদড়া এলাকায় কৃষি জমিতে নেমে পড়ে। খেয়ে পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয় বিঘার পর বিঘা জমির ধান সহ অন্যান্য ফসল। পরে হাতির পালটিকে ফের জঙ্গলে ফেরত পাঠায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মশাল টিম। শুক্রবার হাতির দল পিড়াকাটা এলাকার দিকে চলে গেলেও গভীর রাতে পুনরায় চাঁদড়া এলাকার কৃষি জমিতে নেমে পড়ে। তারপরই ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এলাকার বাসিন্দাদের।
আরও পড়ুন : ময়নার স্কুলে ১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল
আরও পড়ুন : থানার অভ্যন্তরে মহিলাদের মারধরের প্রতিবাদে জেলা শাসক দপ্তর অভিযানে এসইউসিআই
3/4. তাদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে বিট অফিসার সহ মশাল টিম চাঁদড়া ও দেপাড়ার কৃষি জমিতে এনে ছেড়ে দিচ্ছে। তাতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অনেক কৃষক আবার হাতির পালের উপস্থিতি জেনে আধ পাকা অবস্থায় ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা প্রণয় দে বলেন, “আমরা চাই না বনদপ্তর মশাল টিম দিয়ে হাতিকে জঙ্গল থেকে তাড়িয়ে এনে কৃষি জমিতে ছেড়ে দিয়ে চলে যাক। হাতি স্বাভাবিক ভাবে এসে ক্ষতি করলেও আমাদের কোন ক্ষোভ থাকবে না। আমাদের এই চাষটাকে নষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করছে। এতে চাঁদড়ার বিট অফিসারের মদত আছে।” দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন তারা।


আরও পড়ুন : বনদপ্তরের বার্তা মেনেই রক্তপাতহীন শিকার উৎসব মেদিনীপুরে
আরও পড়ুন : হাতি দেখতে গিয়ে জখম গড়বেতার এক যুবক, ফসলের দফারফা মেদিনীপুর সদরে
4/4. দেড় ঘন্টা ধরে অবরোধ চলে মেদিনীপুর-ধেড়ুয়া রাজ্য সড়কে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। পরে বনকর্তারা এসে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা মনোবিলাস খাটুয়া বলেন, “জঙ্গলের হাতি জঙ্গল থেকে লোকালয়ে বেরিয়ে আসছে বনদপ্তর কি জানে না? বেতন দিয়ে মশাল টিম রেখেছে, তারা কি করে? আমরা চাই দ্রুত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।” স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হাতি জমিতে নামলেও বনদপ্তরের দেখা মেলে না। মশাল টিম নিয়ে বনদপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা অনুপ দে। চাঁদড়া রেঞ্জের আধিকারিক সৈকত বিশ্বাস বলেন, “হাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। হাতির পালকে অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে যত দ্রুত সম্ভব তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ- https://www.facebook.com/biplabisabyasachi
Road Strike
– Biplabi Sabyasachi Largest Bengali Newspaper