বিপ্লবী সব্যসাচী পত্রিকা অনলাইন: নিয়মমাফিক স্নান সেরে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছাত্রী। পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছিল দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বার্থসাধক শিক্ষাসদন হাইস্কুলে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের সারতা তারকনাথ ইন্সটিটিউশন হাইস্কুলের ছাত্রী মধুমিতা কর গত কয়েকদিন ধরেই মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল। বাড়ির পরিবেশে তখন পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনা আর আশার আবহ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। হঠাৎই নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। মধুমিতার বাবা বাদল করের (৭০) আকস্মিক মৃত্যু হয়।
আরও খবরের জন্য ক্লিক করুন… প্রতি মুহূর্তের লাইভ খবরের আপডেট পেতে ফলো করুন বিপ্লবী সব্যসাচী নিউজ
ঝটিতি খবর পেতে আমাদের WhatsApp গ্রুপে জয়েন করুন :
For WhatsApp Group : Click Here

আরও পড়ুন : খড়্গপুর শহরের অদূরে দিনভর দাপালো দাঁতাল, উড়লো ড্রোন, সাহায্য নেওয়া হলো পুলিশের
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। সকালেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় গোটা পরিবার ভেঙে পড়ে। বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। প্রিয় বাবাকে হারিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ে মধুমিতা। তবু চোখের জল মুছে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় সে আজকের মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। মেয়ের এই অদম্য মানসিক জেদে স্তব্ধ হয়ে যান পরিবারের লোকজন এবং প্রতিবেশীরাও। খবর পৌঁছায় স্কুলে। সঙ্গে সঙ্গে সারতা তারকনাথ ইন্সটিটিউশন হাইস্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা মধুমিতার বাড়িতে ছুটে যান।

সারতা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় বর্মন জানান, “বাদল করবাবু আমাদের স্কুলের প্রাক্তন সম্পাদক। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আজ সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আমরা শিক্ষকরা বাড়িতে যাই। দেখি মধুমিতা কান্নায় ভেঙে পড়েছে, কিন্তু আমাদের জানায় সে পরীক্ষা দিতে যাবে। এরপর দ্রুত তাকে স্কুলে নিয়ে আসা হয় এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে বসার ব্যবস্থা করা হয়।” স্কুল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই মধুমিতা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছায়। দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বার্থসাধক শিক্ষাসদন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক যুগল প্রধান এই ঘটনাকে “অত্যন্ত হৃদয়বিদারক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বাবার মৃত্যুর পরও নিজের জেদে পরীক্ষা দিতে আসা সত্যিই বিরল উদাহরণ। আমরা সবাই ওর জন্য প্রার্থনা করছি। মধুমিতা যেন জীবনে সফল হতে পারে, এটাই কামনা।” এবং আগামী দিনে পাশে থাকবো এই আশ্বাসও দেন!

এই ঘটনায় শুধু শিক্ষক-শিক্ষিকারাই নন, আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসীরাও। অনেকেই মধুমিতার মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। শোকের গভীর অন্ধকারের মধ্যেও দায়িত্ববোধ আর ভবিষ্যতের প্রতি অটুট বিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর এই দৃশ্য সমাজের সামনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনার মধ্যেও যে কঠিন মুহূর্তে নিজের কর্তব্য পালন করা যায়, মধুমিতা করের এই সিদ্ধান্ত সেই শক্তিরই প্রতীক হয়ে।
লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ- https://www.facebook.com/biplabisabyasachi
Madhyamik exam
Biplabi Sabyasachi Largest Bengali Newspape