এ কেমন বিকৃত রাজনীতি !

0
265

৩০ তম বর্ষ, ১১১ সংখ্যা, ২৮ নভেম্বর ২০১৭, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪..

এ কোন ধরণের বিকৃত রুচির রাজনীতি ! যাঁরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তাঁরা কী ক্ষমতার জোরে মুখে যা খুশি কুবাক্য ব্যবহার করতে পারেন ? গণতন্ত্র কী কোনও রাজনীতিককে এমন ক্ষমতা দিয়েছে যে বিপক্ষকে যেমন করে পারেন কুবাক্য প্রয়োগ করে, হুমকি দিয়ে শালীনতার সীমা অতিক্রম করে যেতে পারেন তিনি। না, এটা গর্হিত অপরাধ। সংবিধান, গণতন্ত্র, সংসদ, বিচার বিভাগ সবাই সব মানুষকে সমানাধিকার তত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই যদি হয় তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে কোন যুক্তিতে হরিয়ানার বিজেপি নেতা সুরজপাল আমু প্রথমে ‘পদ্মাবতী ‘ ছবির নায়িকা দীপিকা পাডুকোনের মাথা কেটে ফেলার জন্য ১০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষনা করেছিলেন এই ‘বীরপুঙ্গব ‘ বিজেপি নেতা আমু। এবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাক কাটার হুমকি দিয়ে নিজের চরম বিকৃত রুচির পরিচয় দিলেন তিনি। শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রীকে রামায়ণের ‘শূর্পনখার ‘ সঙ্গেও তুলনা করেছেন আমু। না এ দুটি উদাহরনই কেবল নয়, নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহের দলের এই ‘বীরপুঙ্গব ‘ নেতা অভিনেতা রনবীর সিংহকেও হুমকি দিয়েছিলেন, তাঁর পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তার মানে রাজাধিরাজের মতো পর পর কয়েকজনকে তিনি নিজের বীরত্ব দেখিয়ে হুমকি দিলেন। দীপিকার মাথা কেটে নেওয়া, মমতার নাক কেটে নেওয়া এবং রণবীর সিংহের পা ভেঙে দেওয়ার নিদান। দীপিকার অপরাধ পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনসালীর ‘ পদ্মাবতী ‘ ছবিতে কেন্দ্রীয়া অভিনেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই ছবিতে ইতিহাসকে এমনভাবে বিকৃত করেছেন পরিচালক যা হিন্দুত্বের ভাবাবেগে আঘাত করেছে এই হল বিজেপি নেতার অভিযোগ। মমতার উপর তাঁর রোষের কারণ তিনি পদ্মাবতীর মুক্তি ও প্রদর্শন নিয়ে পরিচালক ও তাঁর দলকে পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। এবং যেসব কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন পদ্মাবতীর মুক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে নিরন্তর বাধা ও হুমকি দিয়ে বলেছেন তাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। আর হুমকি প্রদর্শনকারী করণী সেনার সমালোচনা করায় রণবীর সিংহ সুরজপাল আমুর রোষের শিকার হয়েছেন। এখন প্রশ্ন হ’ল এমনভাবে গণতন্ত্র ও অপরের বাক স্বাধীনতায় অবাঞ্চিত হস্তক্ষেপ করে যেভাবে এই বিজেপি নেতা এমনতর কটুক্তি ও হুমকি দিয়ে চলেছেন সবাইকে, তাঁর কী এক্তিয়ার রয়েছে এসব বলার। কেন অমিত শাহরা সব জেনে শুনে চুপ করে রয়েছেন। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি জমানায় তাদের বিভিন্ন কট্টর সংগঠন বিভিন্ন রাজ্য গোরক্ষার নামে মানুষ খুন, অত্যাচার চালিয়ে  যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষের উপর। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী একবার এর বিরুদ্ধে মুখ খুললেও গোরক্ষকদের তাণ্ডব থামেনি। বিজেপির বিভিন্ন নেতা প্রায়শই বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতা-নেত্রীদের নানা ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চলছেন। এটা কোন ধরণের গণতান্ত্রিক রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুরজপাল আমু যেরকম ভাষা প্রয়োগ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বাংলা শুধু নয়, দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। উঠবেও । কিন্তু এইসব নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যদি মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন তবে দেশের মানুষই তার বিচার করবেন। মনে রাখতে হবে এই দেশটা গণতন্ত্রের। এখানে আমু তো পরের কথা, কোনও দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বে এক্তিয়ার নেই গণতন্ত্রে আঘাত হানার। আমুদের জন্য ধিক্কারই যোগ্য জবাব।