কালীপুজোর সময় রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা

0
62
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ একটা বিপদের থেকে মুক্তি পেতে না পেতেই আরও একটা বিপদের ভ্রূকুটি। এবং সেটা আরও ভয়ংকর রূপে। খাস দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে একটি ঘূর্ণিঝড়। সেটা কালীপুজোর দিনেই।
বিগত নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। কিছু কিছু জায়গায় পরিস্থিতি বেশ শোচনীয়। এই অবস্থায় আরও ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা! ইতিমধ্যেই আন্দামান সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর।
এমনিতে অক্টোবরের এই সময়টা বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় একের পর এক নিম্নচাপ। এর মধ্যে অনেক নিম্নচাপই শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ের আকার ধারণ করে। তবে ২০০৯-এর আয়লার পর পশ্চিমবঙ্গ আর কোনো ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়নি। বেশির ভাগ ঝড়ই তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্র উপকূলের দিকে চলে গিয়েছে। তবে ২০১৩ সালে ঘূর্ণিঝড় ফাইলিনের প্রভাব ভালো মতোই টের পেয়েছিল কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গ।
কিন্তু এ বার আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা বেশ অনেকটাই। বিদেশি অনেক আবহাওয়ার মডেলের ইঙ্গিত কিন্তু তেমনই। আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “১৫-১৬ অক্টোবরের মধ্যে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এই নিম্নচাপটি তৈরি হবে। দ্রুত সেটি ঘূর্ণিঝড়ে শক্তি বাড়াবে এবং উত্তরপশ্চিম দিকে সরে এসে উত্তর ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূলের মধ্য দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে।” তবে ঠিক কোথায় এই ঘূর্ণিঝড় প্রথম আঘাত হানবে সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য আরও কয়েক দিন পরে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে ঘূর্ণিঝড় যদি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আঘাত না হেনে কান ঘেঁসে বেরিয়েও যায়, তা হলেও ১৮-১৯ অক্টোবর নাগাদ প্রবল বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গে। সেই সঙ্গে বইবে উত্তাল ঝোড়ো হাওয়া।
রাজ্যের উপকূলীয় অংশে, বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে আয়লার স্মৃতি এখনও টাটকা। এই আবহে নতুন ঘূর্ণিঝড় রাজ্যে কী প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার। তবে ঘূর্ণিঝড় রাজ্যে সরাসরি আঘাত হানলে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে ভালোই হবে তা বলাই বাহুল্য।