আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে, ডেবরায় বললেন দিলীপ ঘোষ

0
252

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কর্মীদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক বৈঠক করতে গতকাল ঘাটাল গিয়েছিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ডেবরার একটি বেসরকারি গেস্ট হাউজ়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “দোকান বন্ধ হয়ে যাবে তৃণমূলের।”
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন দু’দিনের রাজ্য সফরে এসেছিলেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। গত ২৮ জুন পুরুলিয়ায় তিনি একটি জনসভা করেন। পুরুলিয়ায় বাড়ি বাড়ি ঘোরেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। লাগদা গ্রামের একাধিক বাড়িতে যান তিনি। কথা বলেন বাসিন্দাদের সঙ্গে। অমিত শাহর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা।
লাগদা গ্রামে গিয়ে দলিত সম্প্রদায়ের এই পরিবারগুলির হাতে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প সম্বন্ধে বাংলায় লেখা লিফলেট তুলে দেন অমিত শাহ। সেইসঙ্গে তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন। তাঁরা যে কোনও প্রকল্পেরই সুবিধা পাননি তা অমিত শাহকে জানিয়ে দেন দলিত এই পরিবারের সদস্যরা। এর কয়েকঘণ্টা পরই তৃণমূলের তরফে ওই পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দিলীপ রাজোয়াড়ের ঘরে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল নেতারা। সূত্রের খবর, সরাসরি তৃণমূল করার জন্য তাঁদের বোঝানো হয়। প্রচুর সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এরপর রাতেই পরিবারের দুই বৃদ্ধা ও দুই যুবককে সোজা কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “অমিত শাহ পাঁচজনের বাড়ি গিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য নিয়ে তাঁদের কাগজ দেন। কথাবার্তা বলেন। এই ঘটনাতেই ভয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেকারণেই তারা সাধারণ, দরিদ্র, আদিবাসীদের জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে জয়েন করিয়েছে। আমরা তো তাদের কাছে বিজেপি-র কোনও কথা বলতে যাইনি। সরকারের কথা বলতে গিয়েছিলাম। তাদের বিজেপি-তে আসতেও বলিনি। এত ভয় পাওয়ার কী আছে? যে গ্রামে আমরা গিয়েছিলাম, সেখানে পাঁচটা বুথ রয়েছে। সেই পাঁচটাতেই আমরা জিতেছিলাম। সিপিআই(এম), কংগ্রেস, টিএমসি সকলেই বিজেপি-তে চলে এসেছে। এই পরিবর্তন যদি চলে, তাহলে তো তৃণমূলের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ভয়েই ওরা মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। গায়ের জোরে মানুষের হাতে ঝাণ্ডা ধরাচ্ছে। এটা গণতন্ত্র নয়। পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ এর জবাব দিয়েছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনেও দেবে।”

পাশাপাশি ভারতী ঘোষ সম্পর্কেও মুখ খুললেন দিলীপবাবু। তিনি বলেন, “প্রশাসন তার কাজ করছে। মানুষকে ধমকানো, চমকানোর ফল উনি পেয়ে গেছেন।” প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ সহ ন’জনের নামে ঘাটাল মহকুমা আদালতে ১১১ পাতার চার্জশিট পেশ করল সিআইডি। গত ২৯ জুন শুভঙ্কর ভট্টাচার্য সহ সিআইডি-র ছ’সদস্যের একটি দল ঘাটাল আদালতে উপস্থিত হয়ে দাসপুরের সোনা প্রতারণার মামলায় চার্জশিট জমা দেয়। চার্জশিটে ভারতী ঘোষ ও তাঁর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী সুজিত মণ্ডলকে ফেরার উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতিদমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। চার্জশিটে মোট ন’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে ভারতী ঘোষ এবং তাঁর দেহরক্ষী সুজিত মণ্ডলকে ফেরার উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন যে ধারায় মামলা রজু করা হয়েছে তার শুনানি সেশন কোর্ট ছাড়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। তাই সম্ভবত মামলাটি মেদিনীপুর কোর্টে স্থানান্তরিত করা হবে। আজ যে ন’জনের নামে সিআইডি চার্জশিট জমা দিয়েছে তাঁরা হলেন প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ, তাঁর স্বামী এম. ভি. রাজু, ভারতীর দেহরক্ষী সুজিত মণ্ডল, তৎকালীন দাসপুর থানার ওসি প্রদীপ রথ, ঘাটাল থানার ওসি চিত্ত পাল, সিআই ঘাটাল শুভঙ্কর দে, এমটিও ঝাড়গ্রাম দেবাশিস দাস, ভারতী ঘোষের কেয়ারটেকার রাজমঙ্গল সিং এবং বিমল গড়াই। প্রত্যেককেই অভিযুক্ত করা হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১১৯, এব‌ং ১২০(বি) ধারায় এবং দুর্নীতি দমন আইনে।
এবছরের ৩ ফেব্রুয়ারি দাসপুর থানায় সেখানকার এক ব্যবসায়ী চন্দন মাজির অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা শুরু করে মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। তবে সেই এফআইআর-এ ভারতী এবং তাঁর দেহরক্ষীর নাম ছিল না। মামলায় ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাঁদের মধ্যে চারজন পুলিশ অফিসার। দাসপুরের ব্যবসায়ী বিমল গড়াই এবং ভারতী ঘোষের একটি ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকার রাজমঙ্গল সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর অভিযুক্তদের বয়ান ও গোপন জবানবন্দীর উপর ভিত্তি করেই এই মামলায় ভারতী এব‌ং সুজিতের নাম যুক্ত করা হয়।
এই বিষয়ে দিলীপবাবু আরও বলেন, “এটা সবাই জানে যে ওরা এখানকার লোকেদের কষ্ট দিয়েছে, গণ্ডগোল করেছে। ফলে সাজা হওয়া উচিত। তবে যতদিন ওরা টিএমসি-র সঙ্গে ছিল, ওদের গায়ে হাত পড়েনি। যেই টিএমসি-র সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হয়েছে, অমনি কেস খেয়ে গেল। এটা সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে খটকা লাগছে। এই জিনিসটা হজম হচ্ছে না।”