পশ্চিম মেদিনীপুরে এবার সভাধিপতি কে? তৃণমূল নেতাদের মুখে কুলুপ, নাম ভাসছে কয়েকজনের

0
2586

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে বোর্ড গঠনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসতেই স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা সভাধিপতি এবার কে হচ্ছেন। জেলায় ৫১টি জেলা পরিষদ আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা। স্বাভাবিক ভাবেই বোর্ড গঠন করবে তৃণমুল। যেহেতু সভাধিপতির পদটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত তাই জেলা মহিলা প্রতিনিধিরাই সভাধিপতি হবেন। কিন্তু সবার মধ্যে জানার ঔৎসুক্য সভাধিপতি কে হবেন? উত্তর দিতে পারছেন না তৃণমুলের জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে তৃণমুলের কোনও নেতা-জনপ্রতিনিধিই। এক মাস আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন প্রতি জেলায় সভাধিপতি তিনি নিজে ঠিক করবেন। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর সভাধিপতি হয়েছিলেন উত্তরা সিংহ (হাজরা) এবারও কি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরা সিংহের নাম উপরেই ভরসা রাখবেন? ৯ আগষ্ট ঝাড়গ্রামে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা মহিলা তৃণমুল কংগ্রেসের সভানেত্রী করেন উত্তরা সিংহ (হাজরা) কে। উত্তরা সিংহ সভাধিপতি হওয়ার আগে জেলা মহিলা তৃণমুলের সভানেত্রী ছিলেন। দলে মহিলা সমর্থকদের ভাঁটা না পড়লেও পদ থেকে সরানো হয়েছে কাবেরী চ্যাটার্জীকে। তাঁর জায়গায় আনা হয় উত্তরা দেবীকে। আর এখানেই জল্পনার সূত্রপাত। তবে কি উত্তরা সিংহকে সভাধিপতি করতে চাইছেন না মুখ্যমন্ত্রী। দলের অভ্যন্তরীন সূত্রে খবর, বিভিন্ন কারণে উত্তরাদেবীর উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ নেত্রী। উত্তরাদেবীর প্রতি অভিযোগ উঠেছে ঘনিষ্ট গুটি কয়েক নেতাকে নিয়েই তিনি জেলা পরিষদ চালাতেন। অনেক সময় দক্ষ কর্মাধক্ষ্যদের না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নিতেন। সরকারি পরিষেবা পাইয়ে দিতে ঘনিষ্ট দু-তিনজন নেতার কথাকেই গুরুত্ব দিতেন, অন্যাদের এক প্রকার না জানিয়েই। এই সব তথ্যই নেত্রীর কানে গিয়ে পৌঁছেছে। তাই খোদ মুখ্যমন্ত্রীই উত্তরা সিংহ (হাজরা) কে সভাধিপতি করতে চাইছেন না বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও উত্তরা সিংহ হাজরা এবিষয়ে বলেন, “সভাধিপতি হিসাবে আমি থাকবো না নতুন কেউ হবেন তা আমার জানা নেই”। দলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, জেলা সভাধিপতি কে হবেন তা ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। উনি সব দিক বিবেচনা করেই উপযুক্ত ব্যাক্তিকে দায়িত্ব দেবনে। 

উত্তরা সিংহ হাজরাকে যদি সভাধিপতি না করা হয় তবে কে সভাধিপতি হবেন? রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে তৃণমুল নেতাদের মুখে কুলুপ। তবে তিন চারটি নাম ঘোরা ফেরা করছে। সভাধিপতির দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মমতা মূর্মু। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন নিয়ে এম এ পড়েছেন, অইত্যন্ত স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মহিলা। তাঁর গোটা পরিবার প্রথম দিন থেকেই তৃণমুলের সঙ্গে যুক্ত। পঞ্চায়েতের ভোট প্রচারে বেশ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন তিনি। আদিবাসীদের মন জয় করতে মমতা মুর্ম্মুকে সভাধিপতি করলে আবাক হবেন না কেউ। এছাড়াও সভাধিপতির দৌড়ে রয়েছেন শ্রীকান্ত মাহাতর স্ত্রী অঞ্জনা মাহাত। পেশায় তিনি অদ্যাপিকা। স্ত্রীকে সভাধিপতি করার জন্য কলকাতার একাধিক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন শ্রীকান্তবাবু। দৌড়ে এগিয়ে জারিনা ইয়াসমিনও। কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দক্ষতা নেত্রীর ঞ্জর কেড়েছে। এছাড়াও নারায়নগরের এক দক্ষ নেত্রীর নামও ভেসে উঠেছে। জল্পনা সর্বত্রই চলেছে। শেষ পর্যন্ত কে সভাধিপতি হবেন তা সময়ই বলবে।