ভোট নয়, জঙ্গলমহল জুড়ে এখন শুধুই বাঘের আতঙ্ক

0
245

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ জঙ্গল মহল জুড়ে শুধু এখন একটায় আতঙ্ক দক্ষিনরায় । জঙ্গল মহল ছাড়িয়ে মেদিনীপুরের ঘাড়ের কাছেও নিশ্বাস ফেলছে এই দক্ষিনরায় । মাঝে মাঝেই হঠাৎ হঠাৎ এসে গেরিলা কায়দায় আক্রমন করে আবার জঙ্গলের মধ্যে আত্মগোপন । আর এই বাঘ মামা কে ধরার জন্য বনদপ্তর কখনো বা খাঁচা তার মধ্যে ছাগল ,  শুয়োর রাখছেন কখনো বা জাল পাতছেন তো কখনো আকাশে ড্রোন উড়াচ্ছেন তাকে বাগে আনতে । কিন্তু সে তো আর যাই তাই পশু নয় খোদ রয়েল বেঙ্গল টাইগার । জাতীয় পশু । তাকে বাগে আনা যে এতো সহজ কাজ নয় তা বার বার প্রমান করে দিয়েছেন বাঘ বাবাজী । আর বন দপ্তরেও অবস্থা হয়েছে সাপের ছুঁচো গেলার মতো অবস্থা । না পারছেন ধরতে আর না পারছেন তার গতিবিধির উপর নজর দারি রাখতে।
গত পরশু গুড়গুড়ি পালের বাঘঘরার জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে বাঘের আক্রমনে আহত হয় তিন শিকারি । সেই সময় বাঘ বাবাজি পড়ে যায় একটি গর্তে । কিন্তু বনদপ্তরের কর্মীদের জন্য বাঘ বাবাজী অপেক্ষা না করেই জাল ছিঁড়ে জঙ্গলের দিকে পগারপার । তার পর থেকেই চাঁদড়া ,  ধেড়ুয়া , লালগড় , গোয়ালতোড় থেকে শুরু করে গুড়গুড়ি পালের বাসিন্দারা রয়েছেন মহাসঙ্কটে ।

    বনদপ্তরের পক্ষ থেকে বাঘ বাবাজি কে ধরতে গতকাল লালগড়ের বিভিন্ন জঙ্গলে বারো টি জাল পাতা হয়েছে নতুন করে । একই সঙ্গে বাঘের গতিবিধির উপর নজর দারি চালাতে বনদপ্তর লোক নিয়োগ করেছেন যাদের কাজ হলো বনের মধ্যে বড়ো বড়ো গাছের মগ ডালে বসে বাঘের উপর নজরদারি চালানো । বাঘ দেখতে পেলেই সটান বনকর্তাদের খবর দেওয়া । কিন্তু এই পদ্ধতি কতটা কার্যকরি হবে তাতে সন্ধিহান রয়েছে এলাকা বাসী । তাদের বক্তব্য বাঘ রাত্রী তে ঘোরাঘুরি করে শুনেছে । তাই রাত্রীতে গাছের মগডালে বসে বাঘ দেখতে পাওয়া যাবে তো ?
  তাই লালগড়ের ডুমুরকোটা , বসন্ত পুর এলাকার বাসিন্দারা বনদপ্তরের উপর ভরসা না করে নিজেরাই লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রাম রক্ষা করার জন্য পাহারা দিচ্ছেন দিন রাত্রী । কখনো জঙ্গলের দিকে কখনো বা গ্রামের চারপাশ ঘুরে ফিরে দেখছেন বাঘের কোনো গতিবিধি চোখে পড়ে কিনা । একই সঙ্গে যারা জঙ্গলে শিকার করতে যাচ্ছেন বা জঙ্গলে যাচ্ছেন তাদেরও নিষেধ করছেন জঙ্গলে যাতে তারা না যায় ।