বেজে উঠল সানাই, হ’ল ভূরিভোজও, মুক ও বধির পাত্র সুমনের সঙ্গে পাত্রী সাবিত্রীর মালাবদল হোমে

0
557
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ শহরের বিদ্যাসাগর বালিকা ভবনের এক আবাসিকের ধুমধাম করে বিয়ে হ’ল মঙ্গলবার। পাত্রী সাবিত্রী দাস (২২) পাত্র সুমন সাহা (৩৮)। পাত্রের বাড়ি বাঁকুড়ার কতুলপুর, কম্পিউটার পার্টস-এর দোকান রয়েছে তাঁর। তিনি মুক ও বধির। যদিও সুস্থ এক মহিলাকে ১৬ বছরের বড় মুক বধির পাত্রে সঙ্গে বিয়ে দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পাত্রী অবশ্য জানিয়েছেন “আমি পাত্রকে দেখেছি, পাত্রকে পছন্দ, বিয়ে সুখী হতে চাই।”
যদিও এবিষয়ে হোমের সুপার সুস্থিতি তেওয়ারি জানিয়েছেন সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, মেয়েটি সব দিক দেখে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। সানাইয়ের মূর্ছনা, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি এবং পুরহিতের মন্ত্রোচারণে চারহাত এক হ’ল। সাক্ষী রইলেন সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে অগনিত মানুষ। শহরের বিদ্যাসয়াগর বালিকা ভবনের আবাসিক সাবিত্রীর সঙ্গে সুমন সাহার এই বিয়ে উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানে আয়োজনের কোনও খামতি ছিল না। সকাল থেকেই একটা বিয়ে বাড়ির মেজাজে মশগুল ছিল আবাসিকদ্রে প্রতিটি সদস্যা। অন্যান্য দিনের মতো অত বিধিনিষেধ ছিল না। খাওয়া দাওয়া, হইহুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন হল। 
সাবিত্রী মেদিনীপুর হোমে আসার আগে ছিলেন লিলুয়া হোমে। ১৩ বছর আগে তিনি মেদিনীপুরে আসেন। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনাও করেছেন। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে বাঁকুড়ার সুমন সাহার পরিবার যোগাযোগ করে এবং বিয়ে ঠিক হয়। পাত্ররা তিন ভাই, সুমনের কম্পিউটার পার্টস বিক্রির দোকান রয়েছে। সুমনের মা শ্যামলী সাহা বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন। জানালেন সাবিত্রীকে নিজের মেয়ের মতো করে কাছে রাখবো। 
বিয়ে বাড়িতে কন্যা সম্প্রদান করেন কাউন্সিলর মৌ রায়। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অরিন্দম নিয়োগী, মহকুমা শাসক দীননারায়ণ ঘোষ প্রমুখ। বিয়ের পর খাওয়া দাওয়াও হল জমিয়ে। বর যাত্রী ও আবাসিক মিলে প্রায় ৩০০ জন ভুরিভোজে সামিল হয়েছিল। মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, আলুভাজা, বাঁধাকপি, মুরগির মাংস, চাটনি মিষ্টি, সন্দেশ, আইসক্রীম। পাত্রীকে বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বেজে ওঠে বিষদের সূর। সমস্ত আবাসিকরা চোখের জলে বিদায় দেন সাবিত্রীকে।