টোটো চালকদের কর্মবিরতি, সমস্যায় শহরবাসী

0
599

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ শহরের বিভিন্ন রুটে টোটো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে আরটিও। আর এর জেরেই ক্ষোভে ফুঁসছেন শহরের প্রায় তিনহাজার টোটো চালক ও মালিকরা। শনিবার তাঁরা অর্ধদিবস কর্ম্বিরতি পালন করেন এবং আগামী দিনে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেন। 

শহরে টোটর সংখ্যা বেড়ে যাওয়াতে রোজগারে ভাটা পড়েছিল অটো চালকদের। দফায় দফায় তাঁরা আরটিও কে ডেপুটেশন দিয়ে টোটোতে লাগাম টানার আবেদন করেন। আবেদনের ভিত্তিতে শহরের কয়েকটি রুটে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আরটিও। শহরের এলআইসি মোড় থেকে কেরানিচটি, এল আই সি মোড় থেকে ফকির কুঁয়ার চক, কলেক্টরেট থেকে জজ কোর্ট মোড় পর্যন্ত টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শুধুমাত্র ওয়ার্ডের অলি গলিতেই টোটো চলাচল করতে পারবে। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন টোটো চালকরা। তাঁদের বক্তব্য শুধুমাত্র এক ওয়ার্ড থেকে আরেক ওয়ার্ডে ভাড়া খাটলে কত আর টাকা উপার্জন হবে। প্রধান রাস্তায় না চলতে দিলে উপার্জনই হবে না। টোটো চালক সেক নইম বলেন সেকপুরা থেকে কোনো যাত্রী যদি কালেক্টরেট পর্যন্ত যেতে চান তাকে ভাড়া নিতে পারছি না, এভাবে চললে কিভাবে রোজগার করব। টোটো চালক অরূপ দাস বললেন প্রধান রাস্তাগুলিতে টোটো নিয়ে চললেই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। অটো চালক, পুলিশ সবাই মিলে হেনস্থা করছে। রঞ্জন ঘোষ বলেন, এভাবে একপেশে নিয়েম মেনে নেওয়া যায় না, দু’একদিন দেখি তারপর আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব। এদিকে, শনিবার টোটো চালকরা অর্ধদিবস কর্ম্বিরতি পালন করায় ব্যাপক সমস্যায় পড়েছেন শহরবাসী। শহরবাসীরও বেশিরভাগ অংশের বক্তব্য টোটোকে সর্বত্রই চলতে দিলে ভালো হয়। শহরের বাসিন্দা সোমা চট্টরাজ বললেন টোটোতে যাতায়াত করা খুব সুবিধা ও আরামদায়ক, এতে যেমন ঝাঁকুনি কম, তেমনি ওয়ার্ডের গলি পর্যন্তো টোটো যেতে পারে, শহরবাসীর স্বার্থের কথা চিন্তা করে টোটোকে সর্বত্র চলতে দিলেই ভালো হয়। বাসিন্দা দীপঙ্কর দেবনাথ, বিজয় বেহেরা, দীপঙ্কর রাউত, অরুণ মাইতিরা বলেন টোটোতে যাতায়াত করলে ঝাঁকুনি যেমন কম লাগে তেমনি এতে শব্দ কম, প্রত্যন্ত গলি পর্যন্ত চলে যেতে পারে, মানুষ এখন অটোর চেয়ে টোটকেই বেশি পছন্দ করছে, প্রশাসনেরও উচিৎ বিষয়টি নিয়ে মানুষের স্বার্থ দেখা। এদিকে অটো-টোটো সমস্যা নিয়ে বিবাদ মেটাতে আসছে না শাসক দলের কোনও নেতাই। প্রত্যেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। এদিকে দিনকেদিন চরম সমস্যার কারণে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে টোটো চালকদের মধ্যে বচসা, মারধরের ঘটনা ঘটছে, নির্বিকার প্রশাসন।