বাঘের পায়ের ছাপ ভেবে আতঙ্ক এলাকায়, বনকর্তা বললেন- এটা শেয়ালের ছাপ

0
619

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ শেয়ালের পায়ের ছাপকে বাঘের পায়ের ছাপ বলে গুজব ছড়িয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি অপচেষ্টা করল কিছু মানুষ। ঘটনা চন্দ্রকোনা টাউনের রামগড় গ্রামের। জমিতে ছোট ছোট বন্য পশুর পায়ের ছাপ। সেটাকেই বাঘ বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে। গুজবকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ আবার রসালো গল্পও বলে বলে রটিয়েছে। খবর পেয়ে বনদফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পায়ের ছাপের নমুনা সংগ্রহ করে আনেন। বিশেষজ্ঞ্ররা পরীক্ষা করে বলেছেন এটা কোনও মতেই বাঘের পায়ের চিহ্ন হতেই পারে না। এটা শেয়ালের পায়ের ছাপ। মেদিনীপুর বনবিভাগের ডিএফও সন্দীপ কুমার বেড়ওয়াল বলেন, এতা বাঘের নয়, শেয়ালের পায়ের ছাপ, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ যেন গুজব না ছড়ায়, গুজবে কেউ কান কান না দেন, তার আবেদন করেছেন ডিএফও। সগীর রাতে গ্রামের বাসিন্দারা অনেকগুলি কুকুরের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেয়েছিলেন। তার সঙ্গে বন্য শুকরের শব্দের মত কিছু ভয়ংকর শব্দও শুনেছেন। পরিস্থিতি দেখে জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা আর রাতে বাইরে বের হননি। পরদিন কৌতুহলী গ্রামবাসীরা সাত সকালে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখতে পান এলাকায়। রাতের আওয়াজ তাণ্ডব এরপর সকালে পায়ের ছাপ দেখে গ্রামবাসীরা নিশ্চিত এটা বাঘের উপস্থিতি। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বনদফতরের কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রকোনা থানার রামগড় এলাকায়। স্থানীয়রা জানান বৃহস্পতিবার রাত একটা নাগাদ এলাকায় প্রচুর গর্জনের শব্দ পায় তারা, সেই সঙ্গে অনেকগুলি কুকুরের চেঁচামেচিও শুনেছেন। পরিস্থিতি যে অন্য কিছু হতে পারে এটা আঁচ করেই ভয়ে ধানকুড়ার জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা আর রাতে বের হন নি। শুক্রবার সাত সকালে গ্রামবাসীরা একাধিক পায়ের ছাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর অভিযোগ জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় এই গ্রাম, এই ধরনের পায়ের ছাপ দেখে মনে করছি এক কোন বর জন্তু জাতীয় কিছু হতে পারে, তাই আমরা মনে করি এটা বাঘের পায়ের ছাপ। বনদফতরের লোক এসে বিষয়টি চিহ্নিত করুক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ধামকুড়া ও আঁধারনয়ন বিট অফিসাররা। বনদফতরের চন্দ্রকোনা রোডরেঞ্জ এর বনকর্তা মানস কান্তি ঘোষ বলেন, পায়ের ছাপের ছবি করে আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, তবে যাই হোক এলাকাবাসীদেওর ভয়ের কোনও কারণ নেই, বনদফতর সব সময় সজাগ আছে। উল্লেখ্য গত এক বছর আগে শালবনি থানার অন্তর্গত লক্ষণপুর এলাকায় এভাবেই পায়ের ছাপ দেখে বাঘের উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। বনদফতরের প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল যে সেটি পূর্ণবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল টাইগার। যা পরে গ্রামবসীরা পিটিয়ে মেরে ছিল। তাই জঙ্গলে যে বাঘ থাকতে পারে এই আশঙ্কা পুনরায় শুরু হয়েছে।