নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে খোকা ইলিশ ধরার ধূম, মৎস্য কর্তা বললেন কর্মীর অভাব তাই সমস্যা হচ্ছে

0
64
Advertisement

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ খোকা ইলিশ ধরা বা বিক্রির উপর কড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও বাজারে সেই খোকা ইলিশেরই ছড়াছড়ি। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে ১০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশেরই রমরমা। দাম প্রতি কেজি দেড়শো থেকে তিনশো টাকা। মূলত মরশুমে ইলিশের জোগান ঠিক রাখতে ছোট বা খোকা ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে মৎস্য দপ্তরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু, বাজারে খোকা ইলিশের প্রচুর জোগান দেখে মৎস্য বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। এব্যাপারে সকলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
মৎস্যজীবীরা বলেন, বর্ষার সময় অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে আরও একবার ইলিশ ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পর ওই সব ইলিশ জালেও ধরা পড়েছে। ডিম ফুটে ছোট ইলিশ বের হওয়ার পর সেগুলিই এখন ধরা পড়ছে। ছোট ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও বাজারে চাহিদা থাকায় ধরতে হচ্ছে। এদিকে ৯০মিলিমিটারের কম ফাঁসযুক্ত জাল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বটম ট্রলিংও নিষিদ্ধ। কিন্তু, ট্রলারগুলি কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করেই অবাধে ইলিশ ধরছে বলে অভিযোগ।
দীঘা ফিসারমেন অ্যান্ড ফিস ট্রেডারস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, আমরা সরকারের সঙ্গে মিলে খোকা ইলিশ ধরা বা বিক্রির বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছি। সংগঠনের সদস্য তথা মৎস্যজীবীদের খোকা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকার কথা বলছি। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মৎস্য দপ্তরকেই নিতে হবে।
দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, আসলে ইলিশের চাহিদা মতো জোগান থাকে না। সেই কারণেই বড় ইলিশের সঙ্গে খোকা ইলিশও যথেচ্ছভাবে ধরা হচ্ছে। অথচ মৎস্যদপ্তর কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমাদের দাবি, মৎস্য দপ্তরকে বটম ট্রলিং বন্ধ করতে হবে। মাছ ধরার ক্ষেত্রে ঠিকঠাক জাল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। বাজারেও নিয়মিত অভিযান এবং নজরদারি চালাতে হবে। তা না হলে বেশি ইলিশ কিংবা বড় ইলিশ হয়তো ভবিষ্যতে কথার কথাই হয়েই থেকে যাবে। নিয়ম রয়েছে শুধু কাগজে-কলমে। বাস্তবে এর প্রয়োগ হয় না। আমরা খুব শীঘ্রই এব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা সহ-মৎস্য অধিকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেব।
সমস্যার কথা মেনে নিয়ে জেলা সহ-মৎস্য অধিকর্তা(সামুদ্রিক) রামকৃষ্ণ সর্দার বলেন, খোকা ইলিশ নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু দপ্তরে কর্মীর অভাব রয়েছে। তাই ঠিকমতো নজরদারি চালানো যাচ্ছে না। ফলে খোকা ইলিশ ধরা বন্ধে সেভাবে পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না। আসলে মৎস্যজীবীদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। না হলে আগামীদিনে ইলিশ ধরা থেকে তাঁরাই বঞ্চিত হবেন।

Advertisement