শহরের চাঞ্চল্য, শ্যালিকাকে খুন ও শাশুড়িকে জখম করে থানায় আত্মসমর্পণ জামাইয়ের

0
1355

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পারিবারিক বিবাদের জেরে শ্যালিকাকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন জামাইবাবু। জামাইয়ের হাতে আক্রান্ত শাশুড়িও। তিনি এখন কটিক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়বল্লভপুরে। রবিবার রাতে জামাই রূপনারায়ণ সিংহ ভারি কোনও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শালিকা শেফালি দত্ত (৫৮) কে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় শ্যালিকার মৃত্য হয়। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন শাশুড়ি রেখা দত্ত। ঘটনা ঘটিয়েই খুনে অভিযুক্ত জামাই রূপনারায়ণ সিংহ কোতোয়ালি থানায় আত্মসমর্পণ করে। অভিযুক্তকে সোমবার পুলিশ মেদিনীপুর আদালতে তোলে। বিচারক তাকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন এই রূপনারায়ণ সিংহ শশুর বাড়িতে একরকম ঘর জামাই হিসেবে থাকত। প্রায় সময়ই শাশুড়ি ও অবিবাহিতা শ্যালিকার সঙ্গে তার ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। মাত্র একমাস আগে রূপনারায়ণ সিংহ মারপিট করে শ্যালিকার নাক মুখ ফাটিয়ে দেয়। হাসপাতালে ভর্তিও হয় সে। পুলিশে অভিযোগ করলে রূপনারায়ণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবারই জামিনে ছাড়া পেয়ে আসে সে। এসেই দফায় দফায় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো । রবিবার রাতে এমনই বচসার সময় ভারী কোনও অস্ত্র বস্তু দিয়ে শ্যালিকার মাথায় মেরে দেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্য হয় শেফালির। মেয়েকে বাঁচাতে এসে আক্রান্ত হতে হয় তাঁর মাকেও। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ বাড়ীতে গিয়ে তদন্ত করে আসে। এনিয়ে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কল্পনা মুখার্জী বলেন, পারিবারিক বিবাদের জেরে খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমি চাই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। সমাজে মহিলাদের উপর অত্যাচার, খুন, রাহাজানি কখনই কাম্য নয়। 

এব্যাপারে কোতোয়ালি থানার আই সি বিভাগ মণ্ডল বলেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্যালিকাকে খুন করে রুপনারায়ণ। এতেই মৃত্যু ঘটে শ্যালিকার। শাশুড়িকে মেরে জখম করে দেয়। তারপর থানায় এলে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটি পারিবারিক বিবাদের জের বলে আই সি জানান।