বালির খাদান নিয়ে চলছে মাফিয়া-রাজ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা

0
432

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ বালি খাদান মানেই চলছে মাফিয়ারাজ। সেখানে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন শ্রমিকরা। বৈধ খাদানেও বালি তোলা হচ্ছে মেসিন দিয়ে। ফলে কাজ হারিয়েছেন শ্রমিকরা। বৈধ বালি খাদানে মেসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তা সত্ত্বেও মেসিন দিয়ে খাদানে বালি তোলা হচ্ছে। ফলে ‘ওভার লোড’ করে নিচ্ছে লরির চালক ও মালিকরা। ওভারলোডিং-এর জন্য সরকারি রাজস্বও কমে যাচ্ছে। খাদান মালিকদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে একটি ছয় চাকার লরিতে বালি ভর্তি করতে শ্রমিকরা নেন আড়াই হাজার টাকা। ওই লরি মেসিনে ভর্তি করলে খরচ হয় দেড় হাজার টাকা। মেসিন দিয়ে বালি ভর্তি করায় টাকা যেমন কম লাগে তেমনি সময়ও কম লাগে। একটি মেসিনে ৫০ থেকে ৬০টি লরি বালি ভর্তি করা যায়। আবার ২০জন শ্রমিক দেড় ঘন্টায় একটি লরিতে বালি ভর্তি করেন। সারা দিনে শ্রমিকরা বড়জোর ৮টি লরি ভর্তি করতে পারেন। সেজন্য খাদানে মেসিন ব্যবহার করা হয়। প্রশাসনের এক সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি লরিতে বালির দাম ও সরকারি রাজস্ব মিলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দিতে হয় গাড়ির মালিককে। সরকার রাজস্ব পায় তিনশো টাকা ফুটে। ওভারলোডিং একটি ছয় চাকার লরি বালি নেয় ৬০০ ফুট। আর রাজস্ব দেয় ৪০০ ফুটের অর্থাৎ বারশো টাকা। ওভার লোডিং করে লরিগুলি সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। ওভার লোডিং্যের জন্য রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বালি মাফিয়ারাজে শুধু রাজস্ব ফাঁকি নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিকরাও । সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য্যায় ঝাড়গ্রাম পরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে বালি খাদা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরেও জেলার দাসপুর, ডেবরা, ঘাটাল সহ বিভিন্ন জায়গায় বালি মাফিয়ারা একই ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নদী থেকে বালি চলে যাচ্ছে জেলার বিভিন্ন জ্যাগা ছাড়াও কলকাতায়। কলকাতার একটি গাড়ি বালির দাম প্রায় তিন হাজার টাকা বেশী। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চলছে। যে সব জায়গায় নদীতে বালি তোলা হয় সেই জায়গাগুলির উপর কড়া নজর রাখা হয়েছে।