শালবনির বিভিন্ন গ্রামে হাতির তাণ্ডব, তছনছ আলুজমি, ঘরবাড়ি, আতঙ্ক

0
412

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ হাতির তাণ্ডবে শালবনির বেশ কয়েকটি গ্রামে তছনছ হচ্ছে আলুজমি, ঘরবাড়ি। গত তিনদিন ধরে শালবনির বিভিন্ন গ্রামে তাণ্ডব চালাচ্ছে ৯০টি হাতির দল। একদিকে ফসল রক্ষা করা অপরদিকে কনকনে ঠাণ্ডায় রাতা জাগতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন শালবনির জোড়াকুসমি, বাগমারি, কাশিজোড়া, চৈতার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য দিনের বেলায় হাতিগুলি গভীর জঙ্গলে ঢুকে যায়। সন্ধ্যা নামলেই জঙ্গল থেকে বেরে হয়ে লোকালয়ে চলে আসছে হাতির দল। লোকালয়ে আলুজমি, ঘরবাড়ি নির্বিচারে তছনছ করছে। বাসিন্দাদের আরও বক্তব্য এখানে আলু জমি থেকে আলু খাওয়ার লোভ পেয়ে গিয়েছে তাই যতদিন আলু থাকবে ততদিন এজঙ্গল থেকে হাতি তাড়ানো সম্ভব হবে না। কাশিজোড়া গ্রামে আলু চাষি সুকুমার মাঝি বলেন প্রথমদিনই আমার প্রায় ৩বিঘা আলু জমি পা দিয়ে দলে মুচড়ে নষ্ট করেছে, মহাজনের থেকে টাকা ধার করে আলুচাষ করেছিলাম, এবার যে কি উপায়ে হবে কে জানে। ঐ গ্রামেরই অমলকান্তি বেরার বক্তব্য এখানে বহুআলুচাষির আলু জমি নষ্ট হয়েছে হাতির তাণ্ডবে, এর ক্ষতিপূরণ পাবো কিনা ঠিক নাই। এদিকে হাতি যাতে আলুজমিতে নেমে তছনছ করতে না পারে সেজন্য এলাকার যুবকরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। বনদফতরের এক আধিকারিক বলেন হাতিগুলিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে জঙ্গলমহল থেকে দলমার হাতিদের তাড়ানোর উদ্যোগে নিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম বনবিভাগ। হাতিগুলিকে বিরক্ত না করে নিরাপদ ভাবে দলমায় ফেরৎ পাঠাতে দুই জেলার বনকর্মীদের নিয়ে লালগড়ের রেঞ্জ অফিসে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। গত কয়েকবছর ধরে জঙ্গলমহলের লালগড়, বেলপাহাড়ি, শালবনি, গোয়ালতোড়, নয়াগ্রাম, সাঁকরাইল ও গোপীবল্লভপুর এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে হাতির দল। শুধু তাই নয়, হাতির হানায় প্রতিবছর বেশ কিছু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। গত ২৬ নভেম্বর ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাতির দ্বারা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খতিয়ান দেখে বনবিভাগের আধিকারিকদের কড়া ধমক দেন। তারপর থেকেই দুই জেলার বন আধিকারিকরা হাতি তাড়াতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে।