শাসক দলের প্রার্থী হতে চেয়ে একাধিক তৃণমূল নেতার দৌড় ঝাঁপ, প্রার্থী ঠিক হয়নি কোনও দলের

0
554
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ২১ ডিসেম্বর সবং বিধান সভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। ফল প্রকাশ হবে ২৪ ডিসেম্বর। সবং এর প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভূঁঞ্যা দল বদলে তৃণমূলের চলে যাওয়ায় এবং সাংসদ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটি ফাঁকা হয় যায়। সেই কেন্দ্রেই উপনির্বাচন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো নির্বাচাওন কমিশন। এদিকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এদিকে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ করার সাথে সাথেই প্রার্থী হওয়া নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের অন্দরেই, অনেকেই নিজের প্রার্থী পদ নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য স্তরে নেতাদের তোষামদ শুরু করে দিয়েছেন। সবং এ তৃণমূলের প্রার্থী কে তা নিয়ে জল্পনা অনেকদিন আগে থেকেই। অনেকেরই ধারনা সবং-এ নিজের রাশ দরে রাখতে মানস ভূঞ্যাঁ সব সময় চাইছেন নিজের পছন্দ সই বা অনুগামী কেউ ভোটে দাঁড়ান। সেক্ষেত্রে সবার আগে মানস ভূঁঞ্যার পছন্দ তাঁর স্ত্রী গীতা ভূঁঞ্যাকে। সূত্রের খবর মানসবাবু তাঁর স্ত্রীকে সবং-এ প্রার্থী করতে চেয়ে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেই রেখেছেন। কোনো কারণে যদি গীতা ভূঁঞ্যার নাআম বাদ যায় সেক্ষেত্রে মানস ভূঁঞ্যার দ্বিতীয় পছন্দ তাঁর ভাই বিকাশ ভূঁঞ্যাকে। সবং এ মানস ভূঁঞ্যা এবং অমূল্য মাইতির রেসারেসির কথা সকলেরই জানা। সেক্ষেত্রে অমূল্য মাইতিও চাইছেন নিজে প্রার্থী হতে কিংবা তাঁর আস্থাভাজন কাউকে দাঁড় করাতে। তিনিও নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন রাজ্য নেতৃত্বের সাথে । যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরিও প্রার্থী হতে চেয়ে যোগাযোগ রেখে চলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যাএর সাথে। গত বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী নির্মল ঘোষও চেষ্টা করতে কসুর করছেন না। গতবারে প্রার্থীর দোহাই দিয়ে এবারও টিকিটের প্রার্থণায় যোগাযোগ রেখে চলেছেন রাজ্য নেতৃত্বের সাথে। জেলার অনেক তৃণমূল নেতা আবার সবং বিধানসভার টিকিট পাওয়ার জন্য জেলার এক পদস্থ পুলিশ অফিসারকে তোষামোদ করে চলেছেন। সবং-এ তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের কথা সকলেরই জানা। খোদ তৃণমূল নেত্রীও এই কোন্দল সম্পর্কে অবহিত রয়েছেন। তাই কোন্দল থামাতে কলকাতা থেকে কাউকে এনেও প্রার্থী করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। শোনা গিয়েছে সেক্ষেত্রে মমতার পছন্দ মদন মিত্রকে। গত বিধান্সভায় মদন মিত্র জেলে গিয়ে দলে একপ্রকার নিষ্কৃয়ই হয়ে গিয়েছেন। নেত্রীর অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন তিনি। তবে অভিজ্ঞমহলে মনে করছেন মদন মিত্রকে প্রার্থী করলে ফের সারদা, নারদা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে, সেই কারণে প্রার্থী নাও করা হতে পারে মদন মিত্রকে। অনেকেই মনে করছেন সবং-এ গোষ্ঠী কোন্দল থামাতে কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রীকেও প্রার্থী করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া ইন্দ্রাণি হালদার কিংবা হিরণ, সোহম যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ, সকলের মতামত নিয়েই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন, এবং যাকেই প্রার্থী করা হোক না কেন সকলে মিলে প্রচার করে সেই প্রার্থীকে জেতানোর জন্য জোরদার প্রচার করা হবে, ব্যাপক ভোটে জিতবেও । আপনি কি প্রার্থী হতে পারে? অজিতবাবুর জবাব নেত্রী যদি আস্থা রেখে প্রার্থী করেন তবে নিশয়ই লড়াই করবো এবং জিতবোও। তবে তৃণমূলেরই এক সূত্রের খবর নিজে প্রার্থী হতে চেয়ে অজিতবাবুও দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন। এদিকে প্রার্থী হওয়া নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি ধীমান কোলে জানিয়েছেন সবং উপ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী এখনও ঠিক হয়নি, দল যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নিলে সকলকে জানিয়ে দেব। সিপিএম নেতা তরূণ রায়ও জানান সবে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। কংগ্রেস নেতা শম্ভুনাথ চট্যোপাধ্যায় বলেন সবং কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন থেকেই কংগ্রেসের দখলে ছিলো, এবারও কেন্দ্রটি জয় পেতে প্রচার চালাবো। প্রার্থী এখন ঠিক হয়নি, কয়কদিনের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে।