খড়গপুর শিল্পতালুকে কারখানার গুড়োয় জেরবার গ্রামবাসী ও ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ

0
1897

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ খড়গপুর শিল্পতালুকে গড়ে ওঠা রেশমি মেটালিক কারখানা নিয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখালেন কারখানা চত্বরে। এই বিক্ষোভে সামিল হল গ্রামবাসীরাও। গ্রামবাসীদের দাবি স্পঞ্জ আয়রণ কারখানা থেকে ব্যাপক পরিমানে গুঁড়ো জনজীবনে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দা এই কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এই বিষ ছড়ানো। খড়গপুর শহরের শিল্প তালুক এলাকার রেশমি মেটালিক স্পঞ্জ আয়রণের কারখানাটি বহুপুরানো। বর্তমানে এই কারখানা ক্রমেই তার কর্মক্ষেত্র বিস্তৃত করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি থাকা বিভিন্ন প্লটগুলি কিনে কারখানার নির্গত বর্জ্য ও ছাই ফেলার স্থান তৈরি হয়েছে। এই ছাই বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক ও জটিল সমস্যা তৈরি করেছে। গ্রামবাসীদের দাবি বাতাসে উড়ে কারখানার থেকে নির্গত চিমনির ধোঁয়া ও ছাই পাশাপাশি গকুলপুর, নারায়ণপুর, ও অন্যান্য গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাসে বাধা তৈরি হচ্ছে। গ্রামের বেশিরভাগ বাসিন্দারই ফুসফুস ও এই ধরণের রোগে আক্রান্ত। ব্যবহৃত কাপড় চোপড় থেকে জিনিসপত্র বাড়ি ঘর সবই কালো হয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিকে এই সমস্যা না থাকলেও যত দিন যাচ্ছে তত এই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে স্বাভাবিক জনজীবন। বারবার এই দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানালেও কর্ণপাত করেনি বলে গ্রামবাসীদের তরফে অভিযোগ। এরই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে কয়েকশো গ্রামবাসী ও ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নামে। গণ পরিবেশ ও দূষণ প্রতিরোধ কমিটি নামে একটি কমিটি গড়ে তার ব্যানারে এলাকায় ঘুরে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল করে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা কাজী আবদূল রশিদ বলেন, “আমরা এই দূষণ নিয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে বললেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। উল্টে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য কটাক্ষ করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনে জানালেও কোনও কাজ হচ্ছে না। এই মুহুর্তে শ্বাসকষ্ট জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপদে পড়েছি।” কমিটির সভাপতি বরুণ কারক বলেন, শিল্প থাক আমরা চাই, কিন্তু এমন প্রাঙহাতী শিল্প আমরা চাই না, যার জন্য মানুষের বসবাস দুর্বিসহ হয়ে উঠবে। কারখানা কর্তৃপক্ষের দ্বারা স্থানীয় মানুষ কোন ভাবেই উপকৃত হয়নি। উল্টে এলাকা ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে এই দূষণ আটকাতে প্রয়োজনীয় উন্নত প্রযুক্তিও এরা ব্যবহার করছে না। তাই এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে বিক্ষোভ আমাদের।” একই বক্তব্য আরও অন্যান্য গ্রামবাসীদেরও। গ্রামবাসীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এরপরও সমস্যার সমাধান করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।