দেশের প্রাচীনতম রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগার দৈন্য দশায়, কমছে পাঠক সংখ্যা, রাতের অন্ধকারে বাড়ছে মাদকাশক্তদের আনাগোনা

0
668

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ৩১শে আগষ্ট ছিল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। এই দিনটিতে দেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম গ্রন্থাগার রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগারের দৈন্যদশা ফুটে উঠল। গ্রন্থাগারে পাঠক সংখ্যাতো কমেছেই, তাছাড়া গ্রন্থাগারের যেখানে আলমারিতে বই থাকে সেই দুটি ঘরের ছাদের চাঁঙড় ভেঙে পড়েছে। ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ছে বইয়ের আলমারিতে। নষ্টও হচ্ছে বইপত্র। গ্রন্থাগারের পশ্চিম দিকে পুকুরের পাড়ে সন্ধ্যার পর কিছু ছেলে ঢুকে মাদকের ঠেক জমায়। গ্রন্থাগারের সামনের পার্কটিও অত্যন্ত বেহাল হয়ে পড়েছে।

১৮৫১ সালে শহরে গড়ে উঠেছিল এই শতাব্দী প্রাচীন গ্রন্থাগারটি। বহুবিশিষ্ট লোকের আনাগোনা ছিল এতে। এখন সেটির জীর্নপ্রায় দশা। গ্রন্থাগারে বর্তমান বইয়ের সংখ্যা ২৬০০। নিয়মিত পাঠক কয়েক বছর আগেও যেখানে ছিল ১৫০-১৮০ জন, এখন সেটা কমে ৪০-৫০ জনে ঠেকেছে। কর্মীর সংখ্যা মাত্র ২ জন। গ্রন্থাগার ইনচার্জ সন্তোষ কুমার প্রামানিক অবশ্য বেশ কয়েকটি ভালো পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রন্থাগার মুখি করতে গ্রন্থাগারে ফ্রি ইন্টারনেট সিস্টেম, কেরিয়া গাইডেন্স বই রাখা, টেক্সট বই রেফারেন্স বই রাখা হয়েছে। দুষ্প্রাপ্য বই বা পুঁথি গুলিকে ডিজিটালাইজড করে সুগুলো পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। গ্রন্থাগারের ওই কর্মীর ধারনা ফেসবুক, হোয়াটস অয়াপ, ইউটিউব প্রভৃতি সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের জন্যই গ্রন্থাগারে পাঠকের সংখ্যা ক্রমশই কমছে। ১৯৭৫ সাল থেকে গ্রন্থাগারের নিয়মিক পাঠক শহরে সুনীল কুমার মণ্ডল। শুক্রবার গ্রন্থাগার দিবসেও তিনি যথারীতি হাজির হন বই পড়তে। তিনি জানালেন গ্রন্থাগারের আগের মতোই সেই পাঠকদের ভিড় নেই, ক্রমশ পাঠকের সংখ্যা কমছে। এটা কাম্য নয়।

শতাব্দী পারাচীন এই গ্রন্থাগারে পাঠক সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাক এমনটাই চাইছেন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষজন।