পূর্ণাপানিতে একই গ্রামে চার শবরের মৃত্যু, এলাকায় গেলেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার

0
493
ফাইল চিত্র

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ অভাব নয়, স্বভাবের দোষেই মৃত্যু হয়েছে চার শবরের । গ্রামে গিয়ে মৃতদের আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ন’দিনে একই গ্রামে চার শবরের মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। বিনপুর ১ ব্লকের লালগড় থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শবর অধ্যুষিত গ্রামে গিয়ে মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল অতিরিক্ত মদ্যপান ও অনিয়মিত জীবনযাপনের জন্যই মৃত্যু হয়েছে তাদের।

অতিরিক্ত মদ্যপানের জন্যই মৃত্যু হয়েছে চার শবরের

পূর্ণাপানি গ্রামের শবরদের ঘুম ভাঙে মদের গন্ধে আর ঘুম আসে মদের গন্ধে। এক কথায় দিন-রাত নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে শবর পরিবারের মানুষজনেরা। প্রশাসন থেকে সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও নাওয়া খাওয়া ভুলে সারাটা দিন নেশা খেয়ে পড়ে থাকেন। এই গ্রামের বাসিন্দা শবরদের বেশির ভাগই সরকারি প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছে। দু’টাকা কেজি চাল সহ সমস্ত রকমের সরকারি প্রকল্পে নানা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন । কয়েকদিন আগে মৃত কুবান শবরের স্ত্রী খুকুমনি শবর জানান, “সরকার থেকে নিয়মিত চাল, আটা পাই। আমার স্বামীর জন্ডিস হয়েছিল। লালগড় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছিল। কিন্তু ও ভর্তি থাকতে চায়নি বাড়ি চলে এসেছিল। মদ খাওয়ার অভ্যাসও ছিল খুব। ব্লক থেকে আমাদের ত্রান দেওয়া হয়েছে।” মৃত সুধীর শবরের সম্পর্কিত আত্মীয়া বৃদ্ধা বাসনা শবর বলেন, “ঘরে চাল থেকে শুরু করে খাবার রয়েছে। কিন্তু ভালভাবে খেত না। একমুঠা ভাত খেত। মদ খত কেবল, ভাত খেত না। বয়সও হয়েছিল।” মৃত বছর পঁয়ত্রিশ মঙ্গলু শবরের বাবা চনু শবর বলেন, “ছেলে বিয়ে করলেও বউ ছেড়ে চলে গিয়েছে অনেকদিন। ছেলের টিবি হয়েছিল। স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে নিয়মিত ওষুধ বাড়িয়ে দিয়ে যেত। অনেক দিন ধরে ভুগছিল ছেলে। রেশন চাল, আটা সবই পাই। ব্লক থেকে ত্রাণও পেয়েছি।” গত ৩ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ণাপানি গ্রামে দীর্ঘদিন অসুখে ভোগার পর মারা গিয়েছেন বৃদ্ধ সুধীর শবর ছাড়াও বছর বিয়াল্লিশের কুষান শবর, বছর পঁয়ত্রিশের মঙ্গলু শবর এবং বছর তেতত্রিশের নেবু শবর। গত দেড় দু’মাস আগে এই শবর পাড়ার বাসিন্দা লাল্টু সবর, সাবিত্রী শবর এবং পল্টু শবরের মৃত্যু হয়েছিল টানা অসুখে ভুগে। এদের প্রত্যেকটি পরিবারের পরিজনেরা জানিয়েছেন নেশগ্রস্ততা ছিল এদের প্রত্যেকেরই। মঙ্গলবার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহন দাস গুপ্ত, বুদ্ধেশ্বর মাহাতোরা জানিয়েছেন, “এই শবর পাড়ার মানুষদের প্রথমে প্রয়োজন সচেতনতা। এদের মধ্যে যে মদ্যপানের অভ্যাস তা দূর করার প্রয়োজন রয়েছে। এরা সরকারি আটা পর্যন্ত বিক্রি করে মদ খায়।” এদিন পূর্ণাপানি গ্রামে শবরদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসতেই ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েসা রানি ঐ এলাকায় পৌঁছে যান। প্রত্যেকটি মৃত পরিবারের সদস্যসদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সুবিধা অসুবিধার দিকটি জেনে নেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা দেন। এদিন জেলাশাসকের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছেন প্রত্যেকটি পরিবার সরকারি সুবিধা পান।