বিজেপির ‘সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে এবার পথে নামল তৃণমূল, শহরে মিছিল, পথসভা

0
95

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ রাজ্যে জুড়ে বিজেপি সন্ত্রাস তৈরির অপচেষ্টা করছে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী নীতির কলে দেশের মানুষ দিশেহারা। ঠিক এই অভিযোগ এনে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সঙ্গে মেদিনীপুরেও বিক্ষোভ মিছিল করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। বিক্ষোভ মিছিলের শেষে শহরের কালেক্টরেট মোড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর কুশপুতুল পোড়ানো হয়।। হয় পথসভাও। পথসভাতে বক্তব্য রাখেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি,সাংসদ মানস ভূঁঞ্যা, সভাধিপতি উত্তরা সিংহ, দুই আশিস চক্রবর্তী, প্রদ্যোৎ ঘোষ প্রমূখ। বিক্ষোভ মিছিলে ছিলেন বিধায়ক শংকর দোলুই, শ্রীকান্ত মাহাত, মমতা ভূঁঞ্যা, শিউলি সাহা পুরপ্রধান প্রণব বসু, তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি প্রমুখ। শুক্রবারই রাজ্যের প্রতিটি জেলার বিক্ষোভ অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছিল বিজেপি। দার্জিলিং-এ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপি নেতা কর্মীদের উপর গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছিল বিজেপি। তাদের অভিযোগ ছিল তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতে মোর্চা কর্মীরা এই আক্রমণ করেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা অবরোধ করেছিল বিজেপি। ঠিক তার পরের দিন শনিবার বিজেপির পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল করে তৃণমূল। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকহাজার তৃণমূল কর্মী সমর্থক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। শহরের কলেজ মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

পুড়ল মোদী – অমিতের কুশপুতুল

তবে রাজনৈতিক মহলের ধারনা একটু ভিন্ন। তাদের বক্তব্য একদা তৃণমূলের সেকেণ্ড ইন কমাণ্ড মুকুল রায় ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বিজেপিতে যোগাদান করবেন নাকি অন্য নতুন দল করবেন সেনিয়ে বিস্তর জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। চর্চা চলছে তৃণোমূলের কোন কোন নেতা কর্মী শেষ পর্যন্ত মুকুল রায়ের সঙ্গে যাবে তার তালিকা নিয়ে। শনিবার রাজ্য জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের নামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যা সকলকে একছাতার তলায় সামিল করা চেষ্টা করছেন। কে কে মিছিলে এলেন, কে এলেন না সেদিকেও নজর রেখেছেন। তৃণমুলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি মিছিল শুরু আগে বারংবার খোঁজ নিচ্ছিলেন অন্য নেতাদের কাছে। অজিতবাবু বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে সকলে সামিল, নেত্রীর কাছ থেকে যে বা যারা দূরে চলে যাবে জনগণও তাদের ক্ষমা করবে না, এজেলা থেকে এমনও কারও নাম শুনিনি যিনি মুকুল রায়ের পক্ষে যাবেন। তবে এদিনের মিছিলে সামিল হয়েছিলেন মুকুল ঘনিষ্ট শহরে ধনী ব্যবসায়ী, যিনি মুকুলরায়ের বাড়ি গিয়ে বিজয়া সেরেছেন। বিক্ষোভ মিছিলে আরও একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ‘আমি মুকুল রায়ের সঙ্গে নেই তৃণমূলেরই সঙ্গে আছি’-এটা প্রমান করার জন্য নেতাদের দেখিয়ে বাড়তি উচ্ছাস, উন্মাদনা প্রকাশ করেছেন। জেলার প্রতিটি ব্লক, ওয়ার্ড থেকে বাস, লরি, ট্রেকার করে প্রচুর তৃণমূল সমর্থক এসেছেন। মুকুল রায়ের সঙ্গে দল বদলাবেন এমন ভাবনা যে বা যারা করেছেন এই মিছিল দেখে তাঁরা চিন্তিত হবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।