পেনসিলের শিষে দুর্গা বানিয়ে ইণ্ডিয়া রেকর্ডস বুকে উঠেছে আনন্দপুরের যুবকের

0
3987
ছবিঃ সৌজন্যে Creative Art ফেসবুক পেজ
গিনেস বুকে নাম লেখানোই এখন লক্ষ্য আনন্দপুরের শিল্পী প্রসেনজিতের

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টার ফল পেলেন মেদিনীপুরের যুবক প্রসেনজিত্‍ কর। ভিন্ন ধরনের কাজেও নজির গড়া যায় তা প্রমাণ করলেন তিনি। পেনসিলের শিষের ওপর বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দুর্গামূর্তি তৈরি করে নিজের নাম লেখালেন ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে। তঁার এই সাফল্যে পরিবার-সহ গোটা মেদিনীপুর মানুষের মধ্যে খুশির আমেজ। কেশপুরের আনন্দপুর থানার খেতুয়া গ্রামের বছর পঁচিশের যুবক প্রসেনজিত্‍ ইংরেজিতে স্নাতক। আইটিআই কোর্সও করেছেন। এখন নিজের বাড়িতে বাবা মুক্তিপদের বাইক গ্যারাজে কাজ করেন। কিন্তু এ সবের বাইরে বরাবরই ব্যতিক্রমী হওয়ার ঝোঁক বেশি তঁার।
ছোটবেলা থেকেই আঁকার হাত বেশ শক্ত প্রসেনজিতের। বরাবরই চেষ্টা করেছেন নিজের শিল্পকর্মকে একটু অন্য রকম করে ফুটিয়ে তোলার। যা দেখে মানুষ শুধু মুগ্ধই হবেন না। উল্টে প্রশ্নও করবেন, এটাও কীভাবে সম্ভব? আর সেই তাগিদ থেকেই গত পুজোর সময় পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতে মাসির বাড়িতে বেড়াতে এসে মাত্র ৬ ঘণ্টা সময় খরচে পেনসিলের ডগায় সূক্ষ্ম সুচ লাগিয়ে তিলে তিলে তৈরি করেছিলেন ‘‌মাইক্রো দুর্গা’‌। ম্যাগনিফাইং গ্লাস ছাড়া মাত্র ৫.৫ মিলিমিটার উচ্চতার এবং চওড়ায় ৪ মিলিমিটার সেই দুর্গা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। প্রসেনজিত্‍ বলেন, ‘‌শিল্পী হিসেবে একটা আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতেই মিনিয়েচার নিয়ে কাজ করার আগ্রহ জন্মায়। শিল্পী হিসেবে নিজস্ব জগত্‍ তৈরি করাই ছিল আমার আসল লক্ষ্য।’‌ বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দুর্গা গড়ার জন্য ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি মানপত্র, পদক, পরিচয়পত্র, কলম, স্টিকার, বই-সহ নানা উপহার পাঠিয়েছে প্রসেনজিত্‍কে। প্রান্তিক গ্রামের একজন সাধারণ ছেলের এমন সাফল্যে খুশি সকলেই। তাঁর বাবা মুক্তিপদ কর এবং মা ছন্দা কর বলেন, ‘‌আমরা বরাবরই চেয়েছিলাম কর্মজগতের বাইরে শিল্পী হিসাবেও ছেলের আলাদা জগত্‍ তৈরি হোক। ছেলে রেকর্ডস বুকে নাম লেখাতে পেরেছে শুনে আমাদের খুব ভাল লাগছে।’
গিনেস বুকের তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত এত ছোট দুর্গা আর কেউ তৈরি করতে পারেননি। অসমের সুহিত দাস নামে একজন ১ ইঞ্চির দুর্গা গড়ে এর আগে নাম তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন গিনেস বুকে। সুহিতের তুলনায় প্রসেনজিতের তৈরি দুর্গা আরও ছোট। পদ্ধতি মেনে গিনেস বুকে নাম লেখানোই এখন প্রসেনজিতের লক্ষ্য।