কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ

0
28

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপু জেলায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মতো সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকাল ৫টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বহু জায়গায় রাত পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ পর্ব। বুথে ভোটার সংখ্যা বেশি থাকায় রাত পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বলে জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন। 

ভোটকে ঘিরে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোথাও শাসকদল ভোটগ্রহন কেন্দ্রে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। আবার কোথাও বিরোধীরা শাসকদলের কর্মী সমর্থকদের মারধর করেছে। সবং এর ৯নং অঞ্চলের বলপাই ১২৭ নং বুথে প্রিজাইডিং অফিসারকে কয়েক জন দুষ্কৃতীরা মাথায় বন্ধুক ঠেকিয়ে বেলট ছাপ্পা দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রিজাইডিং অফিসার ছাড়াতে গেলে মারধর করে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনার পর ভোট দান বন্ধ ছিল কিছুক্ষণ। পরে বিরাট পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। শুরু হয় ভোটদান। আবার সবংয়ের মোহাড় এলাকায় অন্য চিত্র দেখা গিয়েছে। ২৫৪ এবং ২৫৫ নম্বর বুথে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। চারটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমুলের পতাকা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এক তৃণমূল কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বিজেপি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় র‍্যাফ। বিজেপির বোমাবাজিতে ৫ জন তৃণমূল সমর্থক জখম হয় বলেও অভিযোগ । তাঁদের ভর্তি করানো হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে। ওই ঘটনায় পুলিশ বিজেপির একজনকে গ্রেফতার করেছে। সাংসদ মানস ভূঞ্যা বলেন, সিপিএমের পাশাপাশি বিজেপিও ভোটের দিন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর চক্রান্ত করেছিল। পুলিশকে বলেও কোনও কাজ হয়নি। ভোটাররা আতঙ্কের মধ্যে ভোট দিয়েছেন।

শালবনির তিলাবনিতে ৬৮ নম্বর শাপকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রেও এদিন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদল হামলা চালিয়েছে। ঐ হামলায় বিরোধী দলের দু’জন জখম হয়েছে। তাঁদেরকে বেধড়ক পেটানো হয়। চিকিৎসার জন্য দু’জনকেই ভর্তি করা হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে। 

গড়বেতা ২ নম্বর ব্লকের নদীপাড়া ৩৩ নম্বর বুথে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালায়। বুথে ঢুকে সমস্ত কিছু ভেঙে তছনছ করে। পিয়াশাল বুথে আবার দুষ্কৃতীরা ব্যালট বক্স ছিনতাই করে। চন্দ্রকোনারোডের রসকুন্ডুতে সেক্টর অভিসারের গাড়ির চালককে মারধর করা হয়। মারধররে ঘটনায় শাসকদলের কর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০৪০টি আসনের মধ্যে ২২২৪টিতে পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬১১টি আসনের মধ্যে ভোট হয় ৪৮৭টিতে। বাকি আসঙ্গুলিতে শাসকদলের প্রার্থী ছাড়া অন্যকোনও প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণ করা হয় নি। জেলা পরিষদের ৫১টি আসনের সবগুলিতেই ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করতে জেলায় মোট ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। ভোট কর্মী ছিল কুড়ি হাজারের বেশি। প্রতিটি বুথেই সশস্ত্র পুলিশ ছিল বলে জেলা পুলিশের কর্তারা জানিয়েছেন। জেলাশাসক তথা রিটার্নিং অভিসার জগদীশ প্রসাদ মিনা জানিয়েছেন, অনেক জায়গায় রাত পর্যন্ত ভোটগ্রহন পর্ব চলে। তাই কত শতাংশ ভোট পড়েছে এই মুহুর্তে বলা সম্ভব নয়। দু’একটি জায়গা ছাড়া জেলায় কার্যত নির্বিঘ্নেই ভোট হয়েছে।