এলাকাবাসীর আর্জি পূর্ণ সংস্কার, পাথরায় মন্দির পরিদর্শনে পুরাতত্ব বিভাগের আধিকারিকরা

0
355

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ জমিজটে আটকে থাকা মন্দির ময় পাথরার উন্নয়নে এগিয়ে এলো দেশের পুরাতত্ত্ব বিভাগ । শনিবার দফতরের এক প্রতিনিধি দল পাথরা যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ইন্ডিয়ান আর্কিওলজিষ্ট এর ইস্টার্ন রিজিয়ন এর ডাইরেক্টর নন্দিনী ভট্টাচার্য সাহু, দফতরের কলকাতার সুপারেনটেণ্ডিং জি .মহেশ্বরি প্রমুখ।
       মেদিনীপুর শহর থেকে পূর্ব দিকে আঁকাবাঁকা কাঁসাই নদীকে ডানদিকে রেখে প্রায় ৭ কিমি পেরোলেই পাওয়া যাবে মন্দিরময় পাথরা গ্রাম। ছোট বড়  ৩৪ টি প্রাচীন মন্দির রয়েছে । কিছু জরাজীর্ণ  মন্দির সংস্কার করা হলেও বেশির ভাগ মন্দির সংস্কারের অভাবে ধুঁকছে । ইতিমধ্যে গ্রামটি দেশের পর্যটন মানচিত্রে স্থান পেয়েছে ।  পাথরা গ্রামের মানুষজন চাইছেন মন্দির গুলি সংস্কার করা হোক,পর্যটক দের আসার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠুক। 
         ইতিহাস হাতড়ে জানা গিয়েছে নবম শতাব্দীতে নবাবী আমলে বাংলা বিহার উড়িষ্যার সুবেদার ছিলেন আলিবর্দী খাঁ । অনেকগুলি পরগনার সুবেদার ছিলেন তিনি । তেমনই একটি পরগনা হোল রতন চক,আধুনা পাথরা । যার জমিদার ছিলেন বিদ্যানন্দ ঘোষাল । সে সময়ই সেখানে গড়ে ওঠে অনেক মন্দির । ৪৫ ফুট নবরত্ন মন্দিরটিই প্রধান । এছাড়াও রয়েছে মাকড়া পাথরের দুর্গা মন্দির,সর্বমঙ্গলা মন্দির,পঞ্চবটির আসন,২০ টি শিব মন্দির,জমিদারি কাছারি মহল,প্রাচীন অট্টালিকা প্রভৃতি । সে সব এখন ইতিহাস । কোন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির তলায় চলে যায় রতন চক পরগনা ।  যখন ইংরেজরা এ দেশে সম্রাজ্য বিস্তার করে তখন ১৩২ টি  পরগনা জুড়ে  হয় অবিভক্ত মেদিনীপুর । এর পর ১৯৬১ সালের ৫ অক্টোবর মজে যাওয়া দীঘি থেকে উদ্ধার হয় বিষ্ণু লোকেশ্বর মন্দির । পাওয়া যায় দু ফুট দু ইঞ্চির এক বিষ্ণু মূর্তি । কয়েকদিন পরে মেলে অষ্ট ধাতুর রাধা কৃষ্ণের মূর্তি । আরো খোড়াখুড়ি করে মোট ৩৪ টি মন্দিরের সন্ধান মেলে । 
    প্রচীন এই হিন্দু মন্দির গুলি সংস্কার করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন পাঠান । বিভিন্ন দফতরে চিঠি,আবেদন নিবেদন করে মন্দির সংস্কারে উদ্যোগী হন । ২০০৩ সালে তত্কালীন রেল মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদ্যোগে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে । জায়গাটি অধিগ্রহণ করে পুরাতত্ত্ব বিভাগ । প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু টাকা মেলে,কিছু মন্দির সংস্কারও হয় । কিন্তু পরে জমিজটে থমকে যায় কাজ । শনিবার পুরাতত্ত্ব বিভাগের কয়েকজন আধিকারিক মন্দিরময় পাথরা ঘুরে দেখেন,কথা বলেন জমির মালিক দের সাথে । ঠিক হয়,পুরাতত্ত্ব বিভাগ সরাসরি জমির মালিক দের কাছ থেকে জমি কিনবে,তারাই সংস্কার করবে মন্দিরগুলি,পর্যটক দের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে । পুরাতত্ত্ব বিভাগের এই উদ্যোগে খুশি পাথরার বাসিন্দারা ।