সবংয়ে ভোটের দিন শাসক দলের হামলায় জখম সিপিএম কর্মীকে দেখতে গেলেন হরেকৃষ্ণ, তাপস

0
236

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ সবংয়ে ভোটের দিন শাসকদলের আক্রমণে দুটি হাতই অকেজো, সারা শরীর জুড়ে লাঠি-রডের আঘাতের চিহ্ন। হাত দুটি অপারেশন করতে হয়েছে। তাই আহত পার্টি কর্মীর চিকিৎসা ব্যবস্থার খোঁজ নিতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে গেলে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দুই সদস্য হরেকৃষ্ণ সামন্ত ও তাপস সিনহা। সঙ্গে ছিলেন সুকুমার আচার্যও।

২১শে ডিসেম্বর সবং বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচন ছিল। সিপিএমের অভিযোগ, আগের দিন মধ্যরাতে বাইক বাহিনী হুমকি দ্যে বলে এসেছিল ভোট দিতে যেন না যায়। এমন হুমকি উপেক্ষা করেই মানুষ ভোটে অংশগ্রহণ করেন। মোহাড় এলাকায় গুণ্ডুত বুথে মাঝ বয়সী অমিত মহাপাত্র বুথে ঢুকে নিজের ভোট দেন। সেই অপরাধে বুথ থেকে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সামনেই চলে তাঁর উপর লাঠি রড দিয়ে তৃণমুলের আক্রমণ। সেই আক্রমণে দুটি হাতই মারাত্মকভাবে জখম হয় তাঁর। প্রথমে সবং হাসপাতালে পরে তাঁকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। একই স্থানি একই সময়ে আরও দুই পার্টি সমর্থক অরবিন্দ মহাপাত্র ও রমেশ মহাপাত্র আক্রান্ত হন। সবং হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয়। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ঘণ্টা তিনেক ধরে দুই হাত অপারেশন চলে।

নিজস্ব সামান্য জমিতে চাষ ও দিন মজুরি করে সংসার চালান অমিত। তাঁর ঘরে রয়েছে দুই ছেলে মেয়ে, স্ত্রী, বৃদ্ধা মা। সিপিএমের আরও অভিযোগ, সেদিন সবং জুড়েই হামলা হয়েছে ১২টি জায়গায়। সব স্থানেই প্রতিরোধ করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ৮ জন। বৃন্দবন মাইতি রক্তাক্ত হয়েও বুথ ছাড়েননি। গোটগ্যাড়াতে সিপিএম এজেন্ট চন্দন মাইতির মাথা ফাতিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের ভুমিকা ছিল একপেশে। এমন আক্রমণের শিকার হন রবীন্দ্র নাথ মাইতিও। এমন ৭ জনের চিকিৎসা চলছে সবং হাসপাতালে। আক্রমণকারীদের নামে থানায় আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অমিত মহাপাত্রর অভিযোগ তাঁর উপর আক্রমণ করেছে অনন্ত ভূঁঞ্যা, মিঠুন মণ্ডল, নারায়ণ বেরা, গোপাল মণ্ডল। দলের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত পুলিশ কোন আক্রমণকারীকেই গ্রেফতার করেনি । দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির জন্য আইনি ব্যবস্থাতে যাবে বলে জানা যায়। হরেকৃষ্ণ সামন্ত ও তাপস সিনহা শাসকে দলের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেছে, ভোটলুঠ হয়েছে সবংয়ে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় শাসক দলের কর্মীরা আমাদের পার্টি কর্মীদের উপন নৃশংস হামলা চালিয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।