ধান ও সব্জি চাষের ব্যাপক ক্ষতি, মাথায় হাত চাষিদের

0
59
ফুলপাহাড়ি গ্রামে তোলা চিত্র
Advertisement
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ : টানা চার’দিনের বৃষ্টিতে ধান,পান ও সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। মাথায় হাত চাষীদের। ধান তোলার সময় জমিতে জল থৈ থৈ করছে।পানের বরজ পড়ে গিয়ে ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে।সব্জির বাগানও জলের তোলায়।টানা বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেড়েছে,তাই লাফিয়ে দাম বেড়েছে বিভিন্ন সব্জির।মধ্যবিত্তের কপালে মাথায় হাত।সমুদ্রে প্রবল জলোচ্ছাস সংে ঝড়ো হাওয়া আর অবিরাম বৃষ্টিতে উপকুলবর্তী জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।বৃষ্টি হয়েছে কখনও মুষলধারে আবার কখনও ঝিম ঝিম করে।পাশাপাশি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির দাপটও তত বেড়েছে।এই বৃষ্টিতে পুর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর-১,রামনগর-২,এগরা-১,এগরা-২,পটাশপুর-১,পটাশপুর-২ ব্লকে ধান,পান এবং সব্জির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।মাইলের পর মাইল দেখা গেছে ধান জলের নীচে ডুব আছে।বহু পানের বরজ পড়ে গিয়েছে।অনেক সবজি ক্ষেতের অবস্থাও একইরকম।এই সমস্ত এলাকায় চাষীরা আমন ধানের চাষ করেছেন ব্যাপক হারে।এখন প্রায় ধান তোলার সময়। বৃষ্টি ও ঝড়ের দাপটে সেই ধান গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়েছে।তার ওপর জমে আছে জল।চাষীদের আশংকা,এই ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।পানের বরজ তো নষ্ট হয়ে গিয়েছে।সবজি গাছ গুলিও জলে ডুবে থাকলে পচে যাওয়ার আশংকা।ধানের পাশাপাশি পান ও সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।যে সব ধান পেকে গেছে,সেই সব ধানের জমিতে জল জমে গেছে।আবার কিছু ধান গাছ পড়ে গেছে,সেই ধান জলে ডুবে গেলে কল বেরিয়ে যাবে।ফলে ধান যেমন ঝরতে শুরু করবে,তেমনি যে সব ধান গাছ পড়ে গেছে,সেই ধান জলে ডুবে গেলে কল বেরিয়ে যাবে।তেমনি গোড়ায় জল জমায় কাটতে দেরি হবে।ফলে ধান বেশি পেকে গেলে ধানের রঙ খারাপ হবে।আবার ঝরেও যেতে পারে।আবার যে ধানের শিষ বেরোনোর মুখে ফুল আসছে,সেই ধান গাছ শুয়ে গেছে।তাতে ফলন কম হওয়ার আশংকা করছেন চাষীরা।প্রবল ঝড় হাওয়ার জন্য পানের বরজগুলে পড়ে গিয়েছে।বহু পানের বরজ হাওয়ার কারনে শুয়ে গেছে।সেই সমস্ত পানের বরজে আবার নতুনকরে চারা লাগাতে হবে।ফলে লোকসানে মাথায় হাত পান চাষীদের।শীত শুরুর আগে যে সব সব্জির জন্য মাঠে চারা তৈরি করা হয়েছিল বা চারা হয়ে গেছে,সেই সব সব্জির ব্যাপক ক্ষতি হবে।এ ব্যাপারে এগরা-২ ব্লকের পানিপারুল অঞ্চলের চাষী বিনয় প্রধান জানান,এই বৃষ্টিতে সব্জি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।ফলে বাজারে তার প্রভাব পড়েছে।রামনগর-১ ব্লকের তালগাছাড়ী-২ অঞ্চলের শ্যামাপদ মাইতি জানান,জলের তলায় ধান গাছ ডুবে যাওয়ায় চাষীরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে। এগরা-১ ব্লকের ছত্রী অঞ্চলের পান চাষী রঞ্জিত মাইতি জানান,এ বছর পান চাষে ব্যাপক লোকসান হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেড়েছে।আবার নতুন করে চাষের কথা তাঁদের ভাবতে হবে।তবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন জেলার কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
Advertisement