দুষ্কৃতীদের নির্বিচারে গুলি-বোমাবাজি, উপপ্রধানের মৃত্যু, উত্তেজনা চরমে

0
1490
ফাইল চিত্র

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ধান চাষ নাকি ভেনামী চিংড়ি চাষ এই নিয়ে কৃষক ও মৎস্যজীবিদের বিবাদের সুযোগ নিয়ে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে দুষ্কৃতীরা নির্বিচারে বোমা মারলো, গুলি চালালও। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকে রনক্ষেত্রের আকার নিলো পুর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর-১ ব্লকের মোবারকপুর। আর এই উত্তেজনা সামাল দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান নান্টু প্রধানের। গুরুতর আহত আরো তিন জন। এদের তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। ভগবানপুর-১ ব্লকের গুড়্গ্রাম ও মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ১০-১২ গ্রামের কৃষক ও মৎস্যজীবিদের মধ্য ধান চাষ ও নোনা জলে ভেনামী চিংড়ি চাশকে ঘিরে বিবাদ দীর্ঘদিনের। ধান চাষীদের অভিযোগ, ভেনামী চিংড়ি চাষের ফলে তাঁদের ধান ও মিষ্টি জলের মাছ চাষে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই স্থানীয় এলাকায় ভেনামী চিংড়ি চাষ করা যাবে না। অপরদিকে ভেনামী চিংড়ি চাষিদের দাবি তাদের জন্য আরও ক্ষতি হচ্ছে না। উল্টে এলাকার গরীব মানুষদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে চিংড়ি চাষে। এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে কোলাঘাট নদীর সঙ্গে সংযুক্ত স্থানীয় পাঁজার খালের উপরে অস্থায়ী বাংধ দিয়ে দিন কয়েকজন কৃষক। এই নিয়ে কয়েকদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ চলছে। অভিযোগ, এর সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতী নিজের ভেনামী চিংড়ি চাষি পরিচয় দিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করে পরিকল্পনা করে শুক্রবার গভীর রাতে কয়েকজন চাষির বাড়িতে হামলা চালায়। তার জেরেই সকালে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিকল্পনা মতো এবারেও ভেনামি চাষিদের নাম করে দুষ্কৃতীরা এই কৃষকদের উপরে হামলা চালায়। চলে বোমা গুলি। ভাঙচুর করা হয় বহুবারি। আগুন লাগানো হয় কয়েকজন কৃষকের বারিতে। স্বাভাবিক ভাবে উত্তেজনা চরম আকার ধারন করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুতে আসেন মহম্মদপুর গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান নান্টু প্রধান। নান্টুবাবু ভেনামী চিংড়ি চাষি হওয়ায় তাকে হাতের কাছে পেয়ে বিক্ষোভ দেখায় কৃষকরা। অভিযোগ এবারও পূর্ব পরিকল্পনা মতো দুষ্কৃতীরা কৃষক সেজে হামলা চালায়। নান্টুবাবুকে রক্ষা করতে এসে তাপস প্রধান, শংকর প্রধান সহ আরও কয়েকজন আহত হন। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হল নান্টু প্রধানের। খবর পেয়ে ভগবানপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশের তৎপরতায় আহতদের উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে র‍্যাফও এলাকায় টহল দিচ্ছে। ভগবানপুর থানা সূত্রে খবর প্রাথমিকভাবে দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

কে এই নান্টু প্রধান?

এলাকাবাসীরা জানালেন পূর্বমেদিনীপুরের এই নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বিভিন্ন সংগঠনিক কাজ করে থাকেন। সদ্য সমাপ্ত সবং উপনির্বাচনের পর বিজয় উৎসবে শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে নান্টু প্রধানকে ‘ভোট মাস্টার’ বলে আখ্যা দেন এবং ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।