কাটা হাত নিয়েই গাছ কাটার বিরুদ্ধে সরব নকুল

0
133

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ জঙ্গলে কেউ গাছ কাটলেই তার মাথা ঠিক থাকে না, বাধা দিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেন, প্রয়োজনে বনদফতরে খবর দেন। জঙ্গলের ডালপালা সংগ্রহ করতে পারো তবে গাছ কাটলে আর রক্ষে নেই, উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ততপর তিনি। ইনি নকূল সিং। মেদিনীপুর সদর ব্লকের শালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। এক দুর্ঘটনায় ডান হাত কাটা গিয়েছে। কাটা হাত নিয়েই গাছ কাটার বিরুদ্ধে নিরলস কাজ করে চলেছেন তিনি। একটা সময় তাদের পোলট্রি ফার্মে কাজ করতেন। ১৯৮৫ সালে মেদিনীপুরের বটতলা চকে এক লরি পিষে দেয় তাঁর হাত। অস্ত্রোপ্রচার করে বাদ দিতে হয় নকুলবাবুর ডান হাত। পোলট্রি ফার্মের কাজটিও হাতছাড়া হয়। এরপর শুরু করেন ছাগল-গরু প্রতিপালন। রোজ সকালে ছাগল গরু চরাতে জঙ্গলে যান তিনি। সেই শুরু । এলাকার লোকে ডাকে “হাতকাটা নকুল” বলে। প্রায় তিরিশ বছর ধরে জঙ্গলটাকে আপন করে নিয়েছেন তিনি। কেউ গাছ কাটতে এলেই তাকে বোঝান গাছের উপকারিতার বিষয়ে, গাছ কাটা নয় গাছ লাগালেই সকলের মঙ্গল। বিস্তীর্ণ জঙ্গলে কোথায় কি গাছ আগে কোথা গাছে পোকা ধরেছে সবই ছিল নকুলবাবুর নখদর্পণে। নকুলবাবুর এ হেন কাজ নজর এড়ায়নি সরকারের। বনদফত্রের পক্ষ থেকে মাসে নামমাত্র টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। নকুলবাবুর আরেকটি বিষয় বলতেই হবে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গাছে লতা পাতা ডাল ব্যবহার করে দিন যাপন করছেন। দাঁত মাজেন নিম ডাল দিয়ে, তার পর কালমেঘ পাতা ভেজানো জল খান, স্নানের সময় সাবানের বদলে কালমেঘ পাতা গায়ে ঘষেন, রোজ খাবার সময় শাক ভাজা চাইই, এ ছাড়া তুলসী পাতা, বাসক পাতা, বট-অর্জুন-অশ্বত্থ গাছে ছাল, মধু এসব দিয়ে বিভিন্ন পথ্য তৈরি করে ব্যবহার করেন। নকুলবাবু বলেন, “জঙ্গল রক্ষা করতেই হবে এবং এতে সবাইকেই এক সাথে কাজ করতে হবে, গাছ কমে গেলে ধ্বংস হবে প্রাণী জগৎ।