পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর তৃণমূল-বিজেপির সংঘাতে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্যঃ প্রদীপ

0
438

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ মেদিনীপুর শহরে স্থাপিত হল অগ্নিযুগেই দুই তরুন বিপ্লবীর আবক্ষ মূর্তি।পরাধীন ভারতে ইংরেজদের অত্যাচার যখন চরমসীমায় তখন মেদিনীপুরের ৩ জেলাশাসক বার্জ, পেডি এবং ডগলাসকে গুলি করে হত্যা করেন মেদিনীপুরের স্বদেশীরা।

১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরের পুলিশ লাইনের খেলার মাঠে পাহাড়িপুর ও সুজাগঞ্জের দুই তরুন বিপ্লবী অনাথ বন্ধু পাঁজা ও মৃগেন দত্ত অত্যাচারী জেলাশাসক বার্জকে গুলি করে হত্যা করেন। তারপরি ইংরেজ দেহরক্ষীর গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শহীদ হন তাঁরা। ১৯৩৩ সালের আজকের দিনটির স্মরণে ঐ দুই শহিদ বিপ্লবীর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়। শহিদ অনাথ বন্ধু পাঁজার মূর্তি এবং মৃগেন দত্তের মূর্তিটি উন্মোচন করেন সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য্য। এই উপলক্ষে রবিবার এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। পুরুষ ও মহিলা মিলে শতাধিক মানুষ রক্তদান করেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজিত মাইতি, রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী অমরত্যানন্দজী মহারাজ, বিধায়ক দীনেন রায়, জেলা পরিষদের বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ, প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যাক্তবর্গ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন এলাকার কাউন্সিলর সৌমেন খান। এই অনুষ্ঠানে এসে কংগ্রেসের সাংসদ প্রদীপবাবু বলেন,রাজ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়েছে সারা রাজ্য। তৃণমূল বিজেপি সংঘাতটিয়াই বারবার প্রকট হয়ে উঠেছে। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই বর্ষীয়ান নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্ষের প্রতিক্রিয়া, লড়াই কংগ্রেসও করে। তবে যে লড়াইয়ে ভাই ভাই খুনোখুনির কিংবা রাজনৈতিক সৌজন্যতাবোধ থাকে না সে লড়াই কংগ্রেস করে না। রবিবার মেদিনীপুর শহরের পাল বাড়ির মাঠ চত্ত্বরে শহিদ অনাথ বন্ধু পাঁজা ও শহিদ মৃগেন দত্তের মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শহরে আসেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য ২০১৯ লোকসভা নির্বাচন, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতার দাবি এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্তরে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যা সিদ্ধান্ত হবে তা রাজ্যের কংগ্রেসের অবস্থান এর কথা ভেবেই হবে। এলাকার কাউন্সিলর তথা অনাথবন্ধু পাঁজা ও মৃগেন দত্ত স্মৃতিরক্ষা কমিটির সভাপতি সৌমেন খান জানান, মেদিনীপুরের বিপ্লবীদের কার্যকলাপের তথ্যাদি সংগ্রহ করে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমস্ত তথ্য রাখার জন্য একটি সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হবে। এদিকে ওই সংগ্রহশালা গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যাতে সাহায্য করা যায় তা নিয়ে চেষ্টা করবেন বলে প্রদীপবাবু আশ্বাস দিয়েছেন।