সভাপতির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া নিয়ে ধুন্ধুমার শহরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

0
2335

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ বিদ্যালয়ে ক্লাশ চলাকালীন বিদ্যালয়ে গিয়ে চেঁচামেচি, টেবিল চাপড়ে কথা বলা, পঠন-পাঠনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠল এক তৃণমুল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে । অভিযোগ, কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে একদল লোকের চেঁচামেচিতে পন্ড হয়ে যায় বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন । ভয়ে সেঁটিয়ে যায় পড়ুয়ারা । অসুস্থ হয়ে পড়েন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা । অন্যান্য শিক্ষিকাদের চোখে মুখেও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে । একটূ পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে । মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা । স্থানীয় কাউন্সিলর নির্মাল্য চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে । যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীণ অভিযোগ, নিজেদের গাফিলতি, দুর্নীতি চাপা দিতেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অপপ্রচার করছেন । 

মিশন প্রাথমিক বালিচা বিদ্যালয়ে পরিচালন সমিতির বদল হয়েছে । নতুন সভাপতি হয়েছেন রাজকুমার মিশ্র । কোর্টের নির্দেশে রাজকুমারবাবু সভাপতি হলেও তাঁকে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে না । নতুনভাবে ছাত্রী ভর্তি হলেও তার তালিকাও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ । এমনকি বিদ্যালয়ের ফাইল কাগজপত্র, ফাণ্ডের টাকাও বিদ্যালয়ে না রেখে নিজের বাড়িতে রাখতেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা । নির্মাল্যবাবু বলেন, নতুন সভাপতিকে দ্বায়িত্ব যাতে তুলে দেওয়া হয় সেকথাই বলতে এসেছিলাম । এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা আবিরবর্ণা সাউ বলেন, নতুন সভাপতিকে দায়িত্ব তুলে দিতেই আমি চাই, কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদএর চেয়ারম্যান বলেছেন ৫ ফেব্রুয়ারি সবাই আলোচনায় বসে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে । অথচ যেভাবে আমাকে অপমান করা হয়েছে তাতে আমি ব্যাথিত । তাঁর আরও বক্তব্য অন্যান্য বিদ্যালয়ে নতুন বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়ে গিয়েছে, তাই চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়েই আমি ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করেছি এবং ইতিমধ্যে ৯২ জন ছাত্রী ভর্তি হয়েছে । তাছাড়া বিদ্যালয় ফাণ্ডের টাকা বিদ্যালয়ের আলমারিতে রাখলে চুরি হয়ে যেতে পারে, সেজন্য টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল বাড়িতেই রেখেছি, নতুন সভাপতিকে কয়েকদিন পরেই দায়িত্ব দিয়ে সব কিছু দিয়ে দেওয়া হবে । যদিও শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এদিনই দীর্ঘক্ষন বাগ্‌ বিতণ্ডার পর নতুন সভাপতিকে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় । এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিদ্যালয়েরি কয়েকজন শিক্ষিকা বলেন, এমন ধরনের ঘটনা বিদ্যালয়ে প্রথম দেখলাম , সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।