আদি-নব্য বিরোধ ভুলে সবাইকে একযোগে প্রচারের লক্ষ্যে বৈঠক জেলা সভাপতির

0
231
ছবিঃ ওয়েব ডেস্ক

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ আদি এবং নব্য বিরোধ মেটাতে দু’পক্ষের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব। বুধবার শহরে ঐ বৈঠক থেকে সবং বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই করার  আহ্বান জানিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। এদিন ঐ উপ নির্বাচনের জন্য দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রভাত মাইতিকে । আবার নীতি নির্ধারণ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে অমূল্য মাইতিকে। সদস্য হিসাবে রয়েছেন সাংসদ মানস ভূঁঞ্যা, দলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, বিকাশ ভূঞ্যা, নির্মল ঘোষ, রমাপ্রসাদ গিরি প্রমুখ।

সবং কেন্দ্রে উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী করা হয়েছে মানসবাবুর স্ত্রী গীতা ভূঞ্যাঁকে। মানসবাবু কয়েকমাস আগে কংগ্রেস ছেড়ে শাসক দলে যোগ দান করেছেন। তাঁর স্ত্রীকে ঐ কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করায় আদি ও নব্য তৃণমূল নেতা কর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্য মুখ না খুললেও আদি তৃণমূলীরা নব্য তৃণমূল নেতাদের ঐ উত্থানকে মানতে পারছেন না। দলেই ঐ আদি ও নব্য বিরোধ মেটাতে কলকাতায় ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছিল। আগামী ২ ডিসেম্বর সবংয়ে নির্বাচনী কর্মী বৈঠক করবেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ও মন্ত্রী সভার সদস্য শুভেন্দু অধিকারী।

বুধবার শহরে বৈঠক করে তৃণমূল করে তৃণমূল জেলা নেতৃত্ব কমিটি গঠন করার পর প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছেন। অজিতবাবু বলেন, সবং কেন্দ্রে যে দলীয় প্রার্থী জিতবে তা নিয়ে কোনও সংশ্য নেই। জয়ের ব্যবধান বাড়ানোর জন্য সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এক সময় কংগ্রেসের সবং ব্লক সভাপতি ছিলেন অমূল্য মাইতি । পরে অমল পন্ডাকে ব্লক সভাপতি করা হয়। ১৯৯৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানস ভূঞ্যাঁ পরাজিত হওয়ার পর মানসবাবু ও অমূল্যবাবুর দুরত্ব আরও চওড়া হয়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল গঠন হওয়ার দিন থেকেই অমূল্যবাবু তৃণমূলে নাম লেখান। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই সবং এ তৃণমূলের ভীত গড়ে ওঠে। মানস ভূঁঞ্যার নেতৃত্বে কংরেসের শক্ত মাটিতে তৃণমূল বেশ কয়েকটি গ্রামপঞ্চায়েত দখল করে। অমূল্যবাবু নিজেও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। কিন্তু মানসবাবু তৃণমূলের নাম লেখানোয় আদি ও নব্য তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসার আগে জেলা নেতৃত্বকে মিটমাট করতেও দেখা গিয়েছে। এবার তৃণমূলের প্রার্থী  হয়েছেন মানসবাবুর স্ত্রী গীতা ভূঞ্যাঁ। যে সব তৃণোমূল কর্মীরা দীর্ঘদিন মানস ভূঁঞ্যা সহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লাওড়াই করে এসেছেন তাঁদের অনেকেই গীতা ভূঞ্যাঁকে প্রার্থী মানতে পারছেন না। তাই যাতে নির্বাচনে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ফের মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে, তার জন্য তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এদিন দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে বৈঠক করেন। কমিটিও গঠন করেছেন।