শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার প্রচারই সার, নর্দমা উপচাচ্ছে ময়লায়

0
54
শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কবরডাঙ্গা এলাকায় তোলা চিত্র
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ একেই বলে বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো। ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সম্পুর্ণরূপে ব্যর্থ এমনটাই অভিযোগ করে আসছে বিরোধীরা। ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই ডেঙ্গু হয়নি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য দফতর। বিভিন্ন জায়গায় ডেঙ্গু নিয়ে প্রচার মিছিল, মিটিং হচ্ছে ঠিকই কিন্তু মূল সমস্যা যে রয়েই গিয়েছে তা মেনে নিচ্ছেন শহরবাসী। সরকারি নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভার মতো মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছে ডেঙ্গু সচেতনতায় পদযাত্রা। স্কুলের শিশুরা সেই পদযাত্রায় অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর জন্য ব্লিচিং, মশা মারার তেল স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে কী সমস্যা মিটছে? অধিকাংশ শহরবাসীই জানালেন শুধু প্রচারই হচ্ছে, মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছেই না। মাইক নিয়ে প্রচার করে শুরু উপস্থিত থাকার বার্তাই জানান দেওয়া হচ্ছে, ডেঙ্গু রোধে আন্তরিকতাই নেই। নর্দমাগুলি ময়লায় উপচে পড়ছে।
       মশা নিধনে তেল, ব্লিচিং নামমাত্র
শহরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কবরডাঙ্গা, তাঁতিগেড়িয়া, হামলাপাড়া প্রভৃতি এলাকায় নিকাশি নালাগুলির অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান এখানকার ড্রেন নিয়মিত সাফাই হয় না, যত্রতত্র নোংরা জমে যাচ্ছে। কাউন্সিলরকে বলতে গেলে তিনি কোনও ভ্রুক্ষেপই করছেন না, একই রকম অভিযোগ শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বুথে। ওয়ার্ডে ধর্মা থেকে শহরে ঢোকার মুখে রাস্তার উপর দিয়ে নর্দমার জল উপচে বয়ে যায়, নর্দমার মুখ ভরে যাওয়ার জন্যই এই দুর্দশা। শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজনপল্লীর অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। এলাকার বাসিন্দারা জানান নালা নিয়মিত পরিষ্কারই হয় না, ভ্যাটে জঞ্জাল স্তুপ হয়ে থাকে। একদিন মাইক নিয়ে পদযাত্রা হ’ল কিন্তু এলাকায় এসে জঞ্জাল সাফাই হ’ল না। এমনই একাধিক অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। অনেক কাউন্সিলর জানা যতটা পরিমান ব্লিচিং দরকার সেই পরিমান ব্লিচিং পুরসভা থেকে দেওয়া হচ্ছে না। দ্বিতীয়বার আওনে গেলে মেজাজ শুনতে হচ্ছে। শাসক দলেরই এক কাউন্সিলর জানান ব্লিচিং যতটা প্রয়োজন একেবারে তা দেওয়া হচ্ছে না। আবার বারবার যেতেও ইচ্ছে করে না। মশা মারার তেলের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। ওয়ার্ডবাসীর অনেকেই জানান ওয়ার্ডে ব্লিচিং এলে কাউন্সিলরদের কাছে কয়েকজন নিজের বাড়ির বাথরুম, কুয়োর জন্য ব্লিচিং নিয়ে যাচ্ছে। তারপর যতটুকু থাকছে তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। শহরের অনেকেই জানালেন বিভিন্নন ওয়ার্ডে কিছু খালি প্লট পড়ে রয়েছে, সেখানে জল জঞ্জাল জমে মশার জন্ম হচ্ছে, যেসব জায়গায় ব্লিচিং ছড়ানো হচ্ছে না। কাউন্সিলর সৌমেন খান বলেন, পর্যাপ্ত ব্লিচিং, মশা মারার তেল দিচ্ছে না পুরসভা। এতেই বোঝা যাচ্ছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে পুরসভা কতটা উদাসীন। যদিও এ সব অভিযোগ মানতে চাইছেন না পুরকর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য যে সব ওয়ার্ড যখনই ব্লিচিং, মশা মারার তেল চাইছে তখনই তা দেওয়া হচ্ছে। তাই এই নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন। ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা যা নেওয়ার তাই নেওয়া হচ্ছে।