শুভেন্দু অধিকারীর ‘মুন্ডু’ ও শ্রীকান্ত মাহাতোর ‘শাস্তি’ চেয়ে মাও নামাঙ্কিত পোস্টার মুড়াকাটায়, ব্যাপক চাঞ্চল্য

0
586

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পরিবহণমন্ত্রী ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ শুভেন্দু অধিকারীর ‘মুন্ডু চাই’, শালবনির বিধায়ক ‘চোর’ শ্রীকান্ত মাহাতর শাস্তি চাই, দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতারা হুঁশিয়ার- এভাবে হুমকি দিয়ে মাওবাদি নামাঙ্কিত হাতে লেখা পোস্টার মিলল মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল থানার মুড়াকাটার জঙ্গলে। প্রায় ১০-১২টি সাদা কাগজে লালকালিতে হাতে লেখা পোস্টারগুলি মিলেছে। সিপিআই মাওবাদীরা এই পোস্টার লিখেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পোস্টারগুলি উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়ায়। উল্লেখ্য, গত বুধবার গোয়ালতোড়ের মাকড়ি এলাকা থেকে মাওবাদী সন্দেহে চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। ঠিক তার পরের দিনই মাওবাদী পোস্টার মেলায় রীতিমতো মাও আতঙ্ক চাড়া দিয়ে উঠেছে। গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ গিয়ে পোস্টারগুলি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ ঐ এলাকায় বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। 

পোস্টারগুলি কে বা কারা ছাড়ায়? মুড়াকাটা এলাকার তৃণমুল নেতা পলাশ হ্যাণ্ডেল বলেন, এইসব এলাকার মাওবাদীর কোনও অস্তিত্ব নেই। সন্ত্রাস ছড়াতে এবং এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে বিজেপির লোকজনই এইসব করে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে গ্রাম বাংলার উন্নয়ন করছে, তাতে বিরোধীরা বুঝে গিয়েছে বাংলায় তাদের ঠাঁই নেই। তাই বিরোধীরা এসব করে যাচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার পোস্টারগুলি উদ্ধারের পর এলাকায় আলোড়ন পড়ে যায়। কয়েকদিন আগেই ঝাড়খন্ড লাগোয়া গিধনীতে মাওবাদী নামাঙ্কিত পোষ্টার পাওয়া গিয়েছিল। এরপর মুড়াকাটা গ্রামে একই ধরনের পোস্টার পাওয়া গেল। পোস্টারে বলা হয়েছে ‘জঙ্গলমহলে সমস্ত গরিব মানুষের প্রতি আমাদের আহ্বান, টি এম সি সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, আমরা তোমাদের পাশে আছি।” মেদিনীপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা খোঁজ নিচ্ছি কারা রয়েছে পেছনে।” তবে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “আমরা গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। কারণ এগুলিকে ভুয়ো পোস্টার বলে উড়িয়ে দেওয়ার কোনও কারণ নেই।” কয়েক সপ্তাহ আগে এ রকমই কিছু পোস্টার ঝাড়গ্রামের জামবনি ব্লকেও রাস্তায় দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘদিন নিস্ক্রিয় থাকার পর ফের জঙ্গলমহলে যে মাওবাদী সক্রিয়তা বাড়ছে তার ইঙ্গিত গত কয়েক মাস ধরেই পাচ্ছিলেন গোয়ান্দারা। মঙ্গলবার বিকেলে গোয়ালতোড়ের কাঞ্জিমাকলি থেকে গ্রেফতার করা হয় সিপিআই মাওবাদী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সদস্য সব্যসাচী গোস্বামী সহ চারজনকে। তাঁদের কাছে থেকে যে লিফলেট এবং পুস্তিকা উদ্ধার হয়েছে, তার বয়ান পড়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠন অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে মাওবাদীরা। 

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ঝাড়খন্ডে আশ্রয় নেওয়া এ রাজ্যের কিছু গোয়েন্দা নেতা ফের নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু করেছেন এ রাজ্যে। তাঁরা কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে বৈঠকও করেছেন।