জঙ্গলমহলে ঘর গোছানোর কাজ শুরু মমতার,পাল্টা জঙ্গলমহল সফরে আসতে চলেছেন মুকুল

0
490
প্রতীক চিত্র

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ পঞ্চায়েত ভোটকে পাখির চোখ করে জঙ্গলমহলে ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১০ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম সফরের মধ্য দিয়ে ঘর গোছানোর কাজ শুরু করবেন তিনি।

জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম ফসরে জেলা প্রশাসনের কর্তারা ছাড়াও দলের সমস্ত বিধায়ক, সাংসদ, জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যদের হাজির হতে বলা হয়েছে। দু’দিনের জঙ্গলমহল সফরে আগামী ৯ অক্টোবর বিকেলে ঝাড়গ্রামে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাত্রিবাস করবেন ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে।১০ তারিখ দুপুরে এসপি অফিসে জেলা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেবেন।
সরকারি নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, দুপুর একটা নাগাদ জেলা প্রশাসনিক বৈঠক শুরু হবে। চলবে বেলা দু’টো-আড়াইটা পর্যন্ত।

জেলা প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছবেন ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে। সেখানে দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পুজো কমিটির কর্মকর্তা এবং মাঝি মাড়োয়াদের সঙ্গে মিলিত হবেন। ১১ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম কলেজ মাঠে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জঙ্গলমহলের জন্য বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

পুজোর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, জঙ্গলমহলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মুকুলের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। মুকুলের হাত ধরেই মাওবাদীদের সংস্রব ছেড়ে অনেকে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন। সে কথা বিলক্ষণ জানেন মুখ্যমন্ত্রীও। তাই পঞ্চায়েত ভোটের আগে ঝুঁকি না নিয়ে জঙ্গলমহলে ঘর গোছাতে নেমে পড়ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এদিকে, মমতার পাল্টা জঙ্গলমহল সফরে চলেছেন মুকুল রায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের পরই জঙ্গলমহলে হানা দেবেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ। দল গড়তে ও ভাঙতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই অভিজ্ঞ রাজনীতিক প্রথম টার্গেট করেছেন জঙ্গলমহলকেই। এবার তৃণমূল ভাঙতে তিনি যা আদা-জল খেয়েই নামবেই, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে মুকুল রায়ের এই পুরুলিয়া সফরের বার্তাতেই। 

মুকুলের স্ট্র্যাটেজিতেই তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য-রাজনীতিতে শক্তি বাড়িয়েছে। নিজেদেরকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। জেলায় জেলায় বিরোধীদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে আনার নেপথ্য নায়ক ছিলেন তিনিই। তাঁর এই কৌশলে ভর করে জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের জেলা, এমনকী মুর্শিদাবাদের অধীর দুর্গও আজ তৃণমূলের দখলে এসেছে।

এবার সেই পন্থাই মুকুল রায় নিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙতে। তিনি বিজেপিতে যান বা কংগ্রেসে, কিংবা নতুন দল গড়ুন না কেন, সেখানেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙেই শক্তিবৃদ্ধি ঘটনাবেন তিনি। আর এই কাজে তাঁর প্রথম লক্ষ্য জঙ্গলমহল। তিনি পুজোর পরই পুরুলিয়ার ছিন্নমস্তা মন্দিরে পুজো দিতে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী ঝাড়গ্রাম সফর শেষ করে ফিরে যাওয়ার পরই মুকুল রায়ের আগমন ঘটবে পুরুলিয়া জেলায়।

নতুন যে কোনও পরিকল্পনা গ্রহণের আগে তিনি ছিন্নমস্তা মন্দিরে পুজো দিয়ে যান। এই রীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। এবার তাঁর অন্যথা হচ্ছে না। মুকুল রায়ের এবারের সফরে কারা তাঁর সঙ্গী হন, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এবারও মুকুলের এই সফরে সঙ্গী হবেন তাঁর অনুগামীরা।

তাই তৃণমূলের শীর্ষসারির নেতৃত্বের কপালে এখন থেকেই চিন্তার ভাঁজ। এই অবস্থায় তৃণমূলের ভরসা একমাত্র দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের বিশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহল সফরের পর পরিস্থিতি বদলে যাবে। কেউই মুকুল রায়ের সঙ্গে যাবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র ডাক কেউ উপেক্ষা করতে পারবেন না। কেননা তৃণমূলে শেষ কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই, সবাই তাঁকে দেখেই তৃণমূল করেন।