এবারও লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমালেন মনসা মেলায়

0
5722

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত মহিষা গ্রামে চারদিন ব্যাপী হয়ে গেল মনসা মেলা। মা মনসার পুজোকে কেন্দ্র করে গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা । মেলার উদ্বোধন করেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি এবং মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। সোমবার পুজোর দিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। পূজো কে কেন্দ্র করে বসেছে মেলা ।

পুজো উদ্যোক্তারা জানান, মা মনসা পুজো শুরু হওয়ার কাহিনী ও পরবর্তী পূজা প্রচলণের কাহিনী। তারা বলেন, সে অনেক দিনের কথা । ধান জমির মাঝ খানে উই এর ঢিপি । মাঝে মাঝেই সাপের উপদ্রব । মহিশা সহ পাশাপাশি গ্রামের চাষিরা জমিতে আবাদ করতে যাওয়ার পর যাতে কোনো রকম অঘটনের সম্মুখীন না হয় সেই ভয়ে স্মরণ নিলেন মা মনসা । মনসা সর্পের দেবী । তাই সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে হলে মনসার পূজো ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই । ভয় থেকে ভক্তি ,,আর ভক্তি থেকেই পূজো আরম্ভ শুরু হয় । তবে কে প্রথম পূজোর প্রচলন করেন তা আজ স্মৃতির গর্ভে বিলীন । উই ঢিপি তে শুরু হল মা  মনসার আরাধনা । এই মহিশা গ্রাম টি ছিল জক পুরের রায় জমিদার দের মৌজা । চাষিরা চাষ করতে । কর দিতেন জকপুরের রায়ভজমিদার দের ।  এই ভাবে চলতে চলতে স্বয়ং মা একদিন জকপুরের রায় জমিদার যজ্ঞ্যেশ্বর রায় কে স্বপ্নাদেশ দেন যে তিনি তার জমিদারি এলাকার মহিশা গ্রামের মাঠে উই ঢিপি তে বিরাজ করছেন । তার যেন পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে পূজো দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে ভক্ত দের সুবিধার জন্য একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন । মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে যজ্ঞ্যেশ্বর রায় স্বয়ং উপস্থিত হন সেই স্থানে । ভক্তি মিশ্রিত প্রনআআম সেরে তিনি ওই খানে মন্দির নির্মানের প্রয়াস শুরু করেন । কিন্তু মায়ের অপার মহিমা । যত বারেই মন্দির নির্মআআন হয় তত বারে মন্দির ভেঙ্গে পড়ে । তাহলে কি কোনো ত্রুটি হচ্ছে মন্দির নির্মানে ? স্মরন নিলেন মায়ের । মা আবার স্বপ্নাদেশ দেন যে তিনি কোন আবদ্ধ ঘরে থাকতে নারাজ । তাই মন্দির নির্মান করতে হবে মাথায় কোনো আচ্ছাদন থাকবে না । জমিদার সেই মতোই মন্দির নির্মানের ব্যাবস্থা করেন । সেই প্রথম থেকে যে ভাবে খোলা আকাশের নীচে মায়ের আরাধনা শুরু হয়েছিল সেই প্রথা এখনো চালু রয়েছে । তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে তার পর থেকে সাপের উপদ্রব কমে যায় এবং চাষী রাও নির্ভয়ে চাষাবাদ করতে থাকেন । প্রথম থেকেই মায়ের পূজোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সেবায়ত নেই । মায়ের কড়া নির্দেশ নিজের পূজো নিজেই দেবে । তাই এখনো মায়ের নির্দেশ মতোই নিজের পূজো নিজেকেই দিতে হয় । তবে বর্তমানে ভক্তের সংখ্যা অত্যধিক হওয়ার দরুন সুষ্ঠ ভাবে পূজো সম্পন্ন করার জন্য কমিটি ব্রাহ্মন রেখেছেন ।
গ্রামের মানুষের ভক্তি আর জমিদারের অর্থানুকূল্যে অচিরেই ছড়িয়ে পড়ে মায়ের নাম । যত দিন যায় ভক্ত সংখ্যা বাড়তে থাকে । ভক্তদের বিশ্বাস মা সকলের মনোবাঞ্ছা পূরন করেন । তাই তিনি জাগ্রতা দেবী মা মনসা । প্রকৃতির নিয়মে আর জাগ্রা দেবী মা মনসার পূজো অর্চনা নির্বিঘ্নে চলে । সেই প্রায় আড়াই শো বছর আগের কথা । হঠাৎ করে ফের শুরু হল সাপের উপদ্রব । আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন স্থানীয় মানুষ । মা কেন রুষ্ট হলেন তার কূল কিনারা কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না । কি হবে ? তাহলে কি মায়ের রোষে সকলে সমূলে ধ্বংস হবেন ? এই ভাবতে ভাবতে গ্রামের বাসিন্দারা লক্ষ করেন কিছু গোরা ইংরেজ পুলিশ জমির উপর কি যেন মাপ জোক করছেন । গ্রামের মানূষ জানতে পারলেন এই মন্দিরের সোজা নিয়ে যাওয়া হবে বেঙ্গল নাগপুর রেল লাইন । সে কি ? কি হবে ? এদিকে রেল লাইনের কাজ যতই এগিয়ে আসে সাপের উপদ্রব ততই বাড়তে থাকে । অবশেষে মায়ের কাছে হার মানে গোরা পুলিশ । রনে ভঙ্গ দেয় তারা । অবশেষে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে রেল লাইনের কাজ সম্পন্ন হতেই ফের কমে যায় সাপের উপদ্রব । সেই কারনেই মন্দির সংলগ্ন রেল লাইন টি ধনুকের মতো ।