মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় বিশিষ্ট শিক্ষক মধুসূদন গাঁতাইতের মৃত্যু, জখম স্ত্রী ও কন্যা

0
5457
কলেজিয়েট স্কুলে মধুসূদন বাবুর মরদেহ। (ইনসেটেঃ মধুসূদন গাঁতাইত)

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় বিশিষ্ট শিক্ষক নেতৃত্ব, কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক মধুসূদন গাঁতাইত প্রাণ হারালেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও কন্যা জখম হয়েছেন। মধুসূদনবাবুর মৃত্যুতে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মধূসূদন বাবুর কন্যা দিল্লিতে এম বি বি এস পাঠরতা ছাত্রী। সোমবার দিল্লি থেকে বিমানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁর কন্যা। কন্যা মিত্রতাকে দমদম বিমান বন্দরে আনতে যান মধুসূদন বাবু এবং তাঁর স্ত্রী সোমাদেবী। রাতে গাড়িতে করে তিনজন বাড়ি ফিরছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ কোলাঘাটের কাছে তাঁর গাড়িটি ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি দাঁড়িয়ে থাকা লরিকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে। তাতে ঘটনাস্থলেই মধুসূদনবাবুর মৃত্যু হয়।

তাঁর স্ত্রী কন্য এবং গাড়ির চালক জখম হন। তাঁদেরকে কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে।

মধুসূদন বাবু তৃণমূল শিক্ষক সমিতির জেলা নেতৃত্ব ছিলেন। তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠনের সঙ্গে কাজ করতেন। কলেজিয়েট স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসাবে যথেষ্ট সুনাম ও সুখ্যাতি ছিল তাঁর। তিনি ছিলেন স্বভায় বিনয়ী, ছাত্র দরদি শিক্ষক। তাঁর বাসভবন শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বল্লভপুর এলাকায়। গ্রামের বাড়ি সদর ব্লকের জাগুলে। প্রখ্যাত চিকিৎসক কৃপাসিন্ধু গাঁতাইত তাঁর ছোট ভাই। মধুসূদন বাবু বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডাইরেক্টর ছিলেন। রেডক্রস সোসাইটির পরিচালন সমিতির সদস্যও ছিলেন। একাধিক স্কুলের পরিচালন সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। সায়েন্স সেন্টারের কর্তা হিসাবে জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞান কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।

মধুসূদন বাবুর মৃত্যুর খবরে বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। বহুমানুষ বল্লভপুরে তাঁর বাসভবনে যান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছোট ভাই কৃপাসিন্ধুবাবু সহ পরিবারেরর অন্যান্য সদস্যরা তমলুক হাসপাতালে যান। সেখানে মধুসূদনবাবুর মরদেহর ময়না তদন্ত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁর মরদেহের তদন্ত করা হয়। মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ আনা হয় কলেজিয়েট স্কুলে। পরে মেদিনীপুর কলেজ, কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রেডক্রস সোসাইটি, জেলা তৃণমূল কংগ্রেস অফিস, বিদ্যাসাগর সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর নিজস্ব বাসভবনে। বিদ্যাসাগর ব্যাঙ্কের সামনে মধুসূদনবাবুর মরদেহে মাল্যদান করেন দুই বিধায়ক দীনেন রায় ও প্রদ্যোৎ ঘোষ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি, তৃণমূলের শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব, শঙ্কর মাঝি প্রমুখ। রেডক্রসে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিধায়ক আশিস চক্রবর্তী, সোমনাথ গুপ্ত, চিত্তরঞ্জন মুখার্জী প্রমুখ। সকলেই পুষ্পস্তবক দিয়ে অন্তিম শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অজস্ত্র শোকস্তব্ধ মানুষ এই শিক্ষকের অন্তিম যাত্রায় সামিল হন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।  অজস্র মানুষের শোক এবং কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এদিন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় পদ্মাবতী শ্মশানঘাটে। মধুসূদনবাবুর মৃত্যুতে বহুমানুষ শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রয়াত শিক্ষক মধুসূচন গাঁতাইতকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর প্রচুর সহকর্মী, ছাত্র, প্রাক্তন ছাত্র, অনুরাগী বন্ধুরা উপস্থিত হয়েছিলেন।