বিজেপিতে যোগদানকারী সিপিএমের হার্মাদদেরও তাড়িয়ে ছাড়ব, হুঙ্কার মমতার

0
167
ছবিঃ ওয়েব ডেস্ক

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলে প্রশাসনিক সভায় জেলার দশ হাজার লোককে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তুলে ধরেন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধাগুলি।

এদিন তিনি বলেন, “দিঘায় বিশ্ববাংলা গড়ে উঠেছে। মহিষাদলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করেছিল। ২৩০০ কোটি টাকার পানীয়জলের প্রোজেক্ট করা হয়েছে। ঘাটাল প্রকল্প হয়ে গেলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ হবে। হলদিয়ায় আরও ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে খুব শ্রীঘ্রই। মাত্র ন’মাসে দিঘা তমলুক রেললাইন করেছি। আমরা ক্ষমতায় এলে নন্দীগ্রামে রেললাইন করে দেবো। এই জেলায় ২০টি কর্মতীর্থ করেছি। ময়নাতে মৎস্য চাষের মডেল হয়েছে। কন্যাশ্রী মেয়েদের ভাতা এক হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি এদিন তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন রাজ্যে তাঁর আমলে শুরু হওয়া জনমুখী প্রকল্পগুলি । তিনি বলেন, “শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ দিচ্ছি। একটা বাচ্চা জন্মালে আমরা একটা গাছ দিচ্ছি। রূপশ্রী প্রকল্পে বিয়ের সময় ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আমরা সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের সুবিধা দিয়েছিল। প্রথম দু’লক্ষ লোকশিল্পীদের ভাতা ও দু’টাকা কিলোতে চাল দেওয়া হচ্ছে। বাচ্চাদের স্কুলে মিড-ডে মিল থেকে শুরু করে একটা মানুষ মরে গেলে সমব্যাথী প্রকল্পে আমাদের সরকার দু’হাজার টাকা করে দিচ্ছে। এই সমস্ত প্রকল্প কোথাও নেই। শুধুই বাংলায় রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের মিউটেশন ফি মুকুব করেছিল। সরকারি হাসপাতালে ওষুধের দাম লাগে না। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে করে দেওয়া হয়েছে। ছ’লক্ষ বেকার ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরি করে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য আগামী দিনে বাংলার যুবক-যুবতীদের কাজের জন্য কোথাও যেতে হবে না। বাংলার প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে। একের পর এক বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানে বাংলার ছেলেমেয়েরাই চাকরি পাবে। তাজপুরে পোর্ট তৈরি সবুজ সংকেত পাওয়া গিয়েছে। সেখানে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান বলে দাবি তাঁর। তাজপুরের পাশাপাশি হলদিয়াতেও প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানেও প্রচুর কর্মসংস্থান হবে।

এছাড়াও গ্রামের মানুষের কথা ভেবে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী । একই সঙ্গে তিনি বলেন কর্মতীর্থ, কৃষক মাণ্ডি তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও মাছ চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও বিনামূল্যে ছাগল, হাঁস, মুরগি দেওয়া হচ্ছে। তা চাশ করে বাড়তি উপার্জনের কথা তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তা বিনামূল্যে পাওয়া কীভাবে সম্ভব তাও জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, যদি বিনামূল্যে ছাগল, হাঁস, কিংবা মুরগীর দরকার হয় তাহলে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা বিডিও’র সঙ্গে যোগযোগ করলেই হবে।

এদিন এই প্রশাসনিক সভা থেকে লালগড়ের নেতাই থেকে গড়বেতার ছোট আঙারিয়ার প্রসঙ্গ বারবারই উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। আবার নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাম আমলের অত্যাচার ভূলিনি। নন্দীগ্রামে এখনও এনেকে নিখোঁজ। অনেক অত্যাচার চালিয়েছিল ওরা। বহুমানুষ মারা গিয়েছেন। কিছু ভুলিনি। আমাকেও একদিন নন্দীগ্রামে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। একটা কথা আজ এখানে দাঁড়িয়ে বলছি, আগে বলিনি। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী একদিন আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তিনি আমাকে সাবধান করেছিলেন । বলেছিলেন ওরা আমাকে মেরে দেবে। আমি তাও ঢুকেছিলাম। আমাকে ওরা আটকাতে পারেনি। “

বিজেপির রথযাত্রায় এরাজ্যে মোদীর সফর সূচিতে ফের বদল এবং দুটি সভা বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে চমকালে, আমি গর্জাই। সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপিতে গিয়ে ভিড়েছে। বাংলাতে হার্মাদদের কোনও জায়গা নেই। সিপিএমকে তাড়িয়েছি, তাদেরও এবার তাড়িয়ে ছাড়ব।