খড়গপুর স্টেশনে উচ্ছেদ হওয়া ভেন্ডারদের বিক্ষোভ

0
167

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ খড়গপুর রেল জংশনের উচ্ছেদ হওয়া তিনশতাধিক ভেন্ডার (হকার্স) সহ তাদের পরিবারের লোকজন, কর্মরতরা শুক্রবার থেকেই বিক্ষোভ মিছিল সহ অবস্থানে বসে । মূল দাবি ছিল অবিলম্বে তাদের কাজ চালু সহ পূনর্বাসন করতে রেলের প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । স্টেশনে ভেন্ডার চালানোর জন্য রেল দফতরে যেমন টাকা জমা দেওয়া আছে । লাইসেন্স প্রাপ্ত এমন তিন শতাধিক ভেন্ডারের সেই কাজ করার মেয়াদ থাকা সত্বেও কেন রেল প্রশাসন তাদের দোকানগুলি থেকে মালপত্র বাইরে ফেলে দিয়ে তালা চাবি লাগিয়ে দেয় তার উত্তর চাওয়া হয় এই বিক্ষোভ অবস্থান থেকে । কোনো নোটিশ না দিয়ে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে রেল প্রশাসন, আর পি এফ দিয়ে ভেন্ডারগুলিতে হামলা চালায়, তার পর সমস্ত দোকানে তালা লাগিয়ে দেয় । মোদি সরকারের দেশ জুড়ে পাঁচ শতাধিক রেল স্টেশন বিক্রি করার যে সিদ্ধান্ত, সেই অনুযায়ী খড়গপুর রেল জংশনে এই আঁচড়। জানা যায় গৌতম আদানি নামে এক ব্যাক্তি এই রেল স্টেশনের টেন্ডার পেয়েছেন । সেই ব্যাক্তির সঙ্গে খড়গপুর শহরে রেল আধিকারিকদের সঙ্গে মধ্যরাতে গোপন বৈঠক হয়, মেয়াদ থাকা সত্বেও লাইসেন্স ধারী এমন তিনশতাধিক হকারদের নোটিস ছাড়াই, হঠাৎ করে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, এমন প্রতিটি ভেন্ডার গড়ে তিন, চারজন করে কাজ করেন, প্রায় বারোশো পরিবারের হাফ লক্ষ মানুষের রুটি-রুজির উপর এমন অমানবিক আক্রমণ, কেন্দ্রীয় সরকারের আইন অনুযায়ী পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা যায় না, হকারদের দাবি যে কেউ স্টেশনের টেন্ডার নিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে যারা এই কাজ করে যাত্রীদের পরিষেবা দিয়ে আসছে তাদের পরিবর্তে নতুন লোক বসানো যাবে না, তার জন্য রেল প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক এর ব্যবস্থা করুক । গত বৃহস্পতিবার এই নিয়ে সারাদিন বিক্ষোভ প্রতিবাদ ডেপুটেশন দেওয়া হয় সাউথ ইস্টার্ন ডিভিশন্যাল রেল ম্যানেজারের দফতরে । শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত খড়গপুর রেল স্টেশনে বিক্ষোভ মিছিল সহ রেল আধিকারিক দফতরে অবস্থান চলে । সি আই টি ইউ, এ আই টি ইউ সি যৌথ আন্দোলনে এদিন অন্যান্য বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়ন এবং আই এন টি ইউ সি যোগ দান করেন, শেষ পর্যন্ত তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনও এই যৌথ আন্দোলনে সামিল হয় । কিন্তু রেল আধিকারিকবৃন্দ এই বিষয়ে কোনও কথা না বলায় এবং শুক্রবার দেখা না করায় আজ , শনিবার শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ কনভেনশন ডাকা হয়েছে । সেই কনভেনশন থেকে পরবর্তী আন্দোলন ঘোষণা করা হবে বলে জানা যায় ।