মৃতদেহ পোড়ানোর জায়গা নিয়ে গোলমালে অবরোধ, হস্তক্ষেপ করলেন বিডিও

0
440

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ মৃতদেহ পোড়ানো নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল বাধে । ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা । কেশিয়াড়ি থানার সামনে মৃতদেহ ফেলে রেখে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মৃতার পরিবারের লোকজন । ঐ ঘটনায় নয়াগ্রাম-খড়গপুর রাজ্য সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে যায় । 

  জানা গেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির পাথরচাটিতে মৃতদেহ পোড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল। কেশিয়াড়ি থানার সামনে মৃতদেহ রেখে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ মৃতার পরিবারের। ঘটনায় নয়াগ্রাম খড়গপুর রাজ্যসড়ক অবরুদ্ধ। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থায় প্রশাসন। কেশিয়াড়ি থানার হাসিমপুরের বাসিন্দা কিরণবালা মাইতি নামের এক প্রৌঢ়া মারা যান এদিন। তার সৎকারের জন্য প্রায় দুশো বছর ধরে বংশ পরম্পরায় মৃতদেহ পোড়ানো পাথরচাটির শ্মশানে আনে পরিবারের লোকজন। কিন্তু পাথরচাটি গ্রামের বাসিন্দা সহ এলাকার উমাশংকর পাত্র ও তারাশংকর পাত্র নামের দুজন ঐ জায়গায় মৃতদেহ পোড়াতে বাধা দেয়। মৃতদেহ পোড়াতে দেবে না বললে বচসা বাধে দুপক্ষের মধ্যে । পাথরচাটির বাসিন্দাদের দাবি তারা এখানে ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করে আছেন। এখানে মৃতদেহ পোড়ানো যাবে না। যদিও দীর্ঘদিনের এই শ্মশানটি বর্তমানে মাটি ফেলে সমতলীকরণ করেছে পঞ্চায়েত খেলার মাঠ তৈরির জন্য। তখনও বাধা দিয়েছিল হাসিমপুরের ঐ পরিবার। হাসিমপুরের মাইতি পরিবার তাদের পূর্ব পুরুষদের এখানেই সৎকার করেছে। জায়গাটি তাদের বলে দাবি করে। এদিন রায়ত তাদের নিজস্ব শ্মশানে মৃতদেহ সৎকারে অনড় থাকে। আর তার জেরে শুরু হয় গণ্ডগোল। শেষমেশ সমাধান না হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ মৃতদেহ ফেলে রাখার পর উপায় না পেয়ে মৃতদেহ কেশিয়াড়ি থানার সামনে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। রাজ্য সড়কের ওপর মৃতদেহ রেখে প্রায় তিনঘন্টা ধরে বিক্ষোভ দেখায় মৃতার পরিবারের লোকজন। তার জেরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় নয়াগ্রাম – খড়গপুর আইআইটি রাজ্য সড়কে। দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করে প্রশাসন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ কেশিয়াড়ি থানার আইসি জুলফিকার মোল্লা ও কেশিয়াড়ি বিডিও গৌতম সান্যাল দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে এদিন পাথরচাটির বিতর্কিত শ্মশানে শবদাহের নির্দেশ দেন। তারা এও আশ্বাস দেন যে বিএলআরওর সঙ্গে কথা বলে জায়গাটির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই আশ্বাস পেয়ে মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানের উদ্দেশে সৎকারের জন্য চলে যান মৃত কিরণবালা মাইতির পরিবার সহ স্বজনেরা।