বালির গাড়ি পিষে দিল ছাত্রীর পা, পথ অবরোধ, পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জে আহত ১২

0
1857

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ বেপরোয়া ভাবে বালি লরি চলতে গিয়ে এক ছাত্রীর পায়ের ওপর দিয়ে যায় লরি।আহত ছাত্রী দীপ্তি মাহাতকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপ্তালে পাঠানো হয়েছে । বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে সদর ব্লকের গুড়্গুড়িপাল থানার মালবান্দি গ্রামে। এরপর ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা রাস্তা অবরোধ করে। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। প্রায় তিনঘন্টা অবরোধ থাকার পর পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে বহুগ্রামবাসী কমবেশি আহত হয়েছেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান এদিন সকালে টিউশনি সেরে বাড়ি ফিরছিলো দীপ্তি মাহাত। রাস্তার পাশ দিয়ে সাইকেল নিয়ে ধীরেই রাস্তার ওপর দিয়েই যাচ্ছিলো। কিন্তু বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি বালি লরি তাকে ধাক্কা মারে, ছাত্রীটি তখন পড়ে যায়। লরির পেছণের চাকা ছাত্রীটির পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। জখম ছাত্রীকে দ্রুত মেদিনীপুর হাসপ্তালে নিয়ে আসা হয়েছে। এদিকে বালি গাড়ির দৌরাত্মের প্রতিবাদে ঘটনার পর থেকেই রাস্তা অবরোধ করে।  অফিস টাইমে রাস্তা অবরোধ করাতে মেদিনীপুর ঝাড়গ্রামের রাস্তার গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। গ্রামবাসীদের বক্তব্য বালি লরিগুলি এমনিতেই ওভার লোড থাকে, তার ওপর বেপরোয়া গরিতে চলাচল করে। এজন্য দুর্ঘটনা প্রায়ই লেগে থাকে। গত বছর এরকমই এক পথ দুর্ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতা ১১টি লরি পুড়িয়ে দিয়েছিল। বারংবার দুর্ঘটনা ঘটলেও বালি গারির দৌরাত্ম কমানো যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা অরূপ নন্দী বলেন প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ম০দতে এবং অর্থের বিনিময়ে বালি লরিগুলি ওভারলোড থাকে, এতে রাস্তার যেমন ক্ষতি হয় তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বাসিন্দা পঞ্চানন সিং বলেন বালি লরিগুলি এত দ্রুত গতিতে যায় যে অন্যান্য পথচারীদের ভয় লেগে যায়। বুধবারের পথ দুর্ঘটনার পর বাসিন্দারা পথ অবরোধ করলে পুলিশ এসে এলোপাথড়ি লাঠিচার্জ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সচিন মক্করের উপস্থিতিতে লাঠিচার্জ হয় এবং অপবরোধ তুলে দেওয়া হয়। অবরোধে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সদর গ্রামীন পশ্চিম মণ্ডলের বিজেপির সভাপতি সুজয় দাস। তাকেও ব্যাপক মারধর করা হয়। সুজয় দাস সহ ১২ জন পুলিশের মারে জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এদিকে দুর্ঘটনাগ্রস্থ ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানান ডাক্তাররা।