দীর্ঘদিন হাতির তাণ্ডবে নাজেহাল গ্রামবাসীরা, গুড়গুড়িপালে পথ অবরোধ

0
297

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ টানা ১৫-১৬ দিন ধরে একই জায়গায় রয়েছে হাতির দল। রাত হলেই জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি, ধানজমি ব্যাপক পরিমানে ক্ষয়ক্ষতি করছে। হাতির আক্রমণে প্রাণও যাচ্ছে। এর জন্য ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামবসীরা গুড়িগুড়িপালের রাস্তা অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং গ্রামবাসীদের সঠিক পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে এবং জঙ্গল থেকে হাতি তারিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দিতে হবে। রবিবার সকাল থেকে প্রথমে গুড়গুড়িপালে এবং পরে বেড়াপাল গ্রামে পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধে মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম রুটে বাস চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। অরুপ নন্দী সহ অন্যান্য বাসিন্দারা বলেন প্রতিটি রাত আতঙ্কে কাটছে। রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না। রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিতে হচ্ছে। একটা দুটো দিন নয় টানা ১৫-১৬ দিন ধরে একই সমস্যা, অথচ কোনওরকম হেলদোল নেই বনদফতরের। গ্রামের কৃষক নরেন ঘোষ, প্রবীর আদক, ভোলা গুছাইত বলেন, বিঘার পর বিঘা ধানজমি তছনছ করে দিচ্ছে হাতির পাল। এবছর চাষ হবে কিনা যে নিয়ে চিন্তায় সবাই। তাছাড়া বনদফতর বিঘা প্রতি যা টাকা ক্ষতিপূরণ দেয় তার ১০গুন টাকা খরচ হয়। তবে এখন কি চাইছেন? চাষিদের বক্তব্য, অবিলম্বে হাতিগুলিকে তাড়িয়ে দেওয়া হোক এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হোক।

গুড়গুড়িপালের পরে বেড়াপালেও পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। সকাল থেকে প্রায় ৪-৫ ঘন্টা পথ অবরোধ হওয়ায় মেদিনীপুর ঝাড়গ্রামে মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ অবরোধে একমাত্র রোগী এবং ছাত্রছাত্রীদের আটকানো হয়নি, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অবশেষে বনদফতরের কর্তারা গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে অবরোধ উঠে উঠে যায়। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উচ্চ মহলে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।