পাওয়ার গ্রিড তৈরিতে এলাকাবসীর বাধা এড়াতে পুলিশের জনসংযোগ কর্মসূচি গড়বেতায়

0
727

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ গড়বেতা ৩ ব্লকের বুড়ামারাতে পাওয়ারগ্রীড তৈরীর ক্ষেত্রে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল পুলিশ প্রশাসনকে । গ্রামবাসীরা এই প্রকল্পের কুপ্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে এই ধারনা থেকে ক্ষোভ দেখিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল কাজ । বিক্ষোভ, পথ অবরোধ করে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল প্রশাসনকে । গ্রামবাসীদের কয়েক দফতা বুঝিয়েও সফলতা পায় নি প্রশাসন । তাই এবার খেলা ও জনসংযোগ কর্মসুচীতে নামলেন পুলিশ কর্তারা । বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিন ধরে গ্রামবাসীদের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মজিয়ে বিলি করা হল বিভিন্ন জিনিসপত্র, করানো হল ভুরি ভোজও । দুদিন ধরে গ্রামবাসীরা মেতে থাকলেন পুলিশি জনসংযোগে । কয়েকদিন আগেই এই সাইনারা-সহ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পাওয়ার গ্রিডের সাবস্টেশন তৈরির কাজ। শোরগোল পড়ে গিয়েছিল জেলা প্রশাসনে। ছুটে এসেছিলেন ব্লক ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। ফলের বাগান নষ্ট করে পাওয়ার গ্রিড করে আখেরে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করা হচ্ছে- এই দাবিতে স্থানীয়দের উপর্যুপরি অবস্থান বিক্ষোভ, মিছিলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল চন্দ্রকোনা রোডের বুড়ামারা, সাঁইনারা সহ ৬-৭ টি এলাকা।

পরিস্থিতির গুরুত্বের কথা ভেবে গড়বেতা ৩ ব্লক প্রশাসন তড়িঘড়ি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। বিলি করা হয় ছাপানো লিফলেট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৬ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করে সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। গত দু’দিন ধরে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে দফায় দফায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করা হয়।

তারপর এই ফুটবল আর বস্ত্রদান কর্মসূচি। উদ্যোক্তা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের পাশেই সাঁইনারা ফুটবল মাঠে স্থানীয় ১০টি দলকে নিয়ে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

সকাল থেকে এই আয়োজনে শামিল হয়েছিলেন সাঁইনারা সহ পাশাপাশি বুড়ামারা, শিমূলডিহা প্রভৃতি গ্রামের বহু মানুষ। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ৮০০ জনের হাতে কম্বল, শাড়ি, ত্রিপল তুলে দেওয়া হয়। এ দিনের কর্মসূচিতে ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সচিন মক্কর, বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো, বিডিও অভিজিত্‍ চৌধুরী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আকাশদীপ সিংহ, বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিত্‍ ভুঁইয়া। পুলিশ কর্তা অবশ্য মুখ্যে বুড়ামারার ক্ষোভ নিয়ন্ত্রনে এই জনসংযোগ বলে সরাসরি স্বীকার করেননি ।

তবে উদ্দেশ্যটা যে সেটাই পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন । অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচীন মক্কর বলেন ” গ্রামবাসীদের বোঝানো হবে । বিভ্রান্তি কাটাতো গ্রামবাসীদের সহযোগিতার আবেদন করেছি । সেই সঙ্গে তাদের সাথে আমাদের জনসংযোগ বাড়ানোর হচ্ছে আরও।” জেলা শাসক পি মোহনগান্ধী বলেন ” গ্রামবাসীদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে । সেটা মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । আমরা আশা করছি কাটিয়ে উঠতে পারবো।