গড়বেতায় পাওয়ার গ্রিড নিয়ে পরিস্থিতি তপ্ত, ফের কয়েকশো গ্রামবাসীর বিক্ষোভ

0
385

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ গড়বেতায় পাওয়ার গ্রিড নিয়ে পরিস্থিতি যেন আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়ল। পুলিশ প্রশাসন লিফলেট প্রচার করে  বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু করলেও শুক্রবার সকাল  থেকে কয়েকশো গ্রামবাসী এই প্রকল্পের প্রতিবাদে সামিল হন। ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থতি সামাল দিতে হয়। বিক্ষোভ দেখাতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বেশ কয়েকজন। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে আদিবাসী ভারত মহাসভা। পশ্চিম মেদিনীপুর গড়বেতা থানার অন্তর্গত বুড়ামারা এলাকায় কয়েক মাস ধরে পাওয়ার গ্রিড তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বাগানের অংশ কেটে কয়েক একর জমির উপর এই পাওয়ার গ্রিড  তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের ধারনা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক এই প্রকল্পের কারণে গ্রাম্য জীবনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পড়বে। গত মঙ্গলবার এই পাওয়ার গ্রিড তৈরির কাজ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন স্থানীয় বুড়ামারা ও সাইনারা গ্রামের বাসিন্দারা। বুধবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা গ্রামবাসীদের বুঝিয়েও ব্যর্থ হন। বৃহস্পতিবার পুলিশ প্রশাসন লিফলেট মাধ্যমে প্রচার করে নিজেদের মতো করে কাজ পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা করেছিল। শুক্রবার থেকেই ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। দুই গ্রামের কয়েকশো পুরুষ ও মহিলা প্রতিবাদ মিছিল করে সেখানে জড়ো হয়ে যান। যার নেতৃত্বে ছিল আদিবাসী ভারত মহাসভা। এই বিক্ষোভকারীদের দেখে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে প্রকল্প চত্ত্বরে। বিক্ষোভ করে কাজে বাধা দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন চারজন। আদিবাসী মহাসভার বক্তব্য, এই পাওয়ার গ্রিডের সুইচ গিয়ারের জন্য একটি বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করা হয়। যদি কোনও রকমে তা লিক হয়ে যায় তাহলে বিপদে পড়বেন গ্রামবাসীরা। প্রকল্প বিপজ্জনক তাই তা বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন গ্রামের মহিলারাও। স্থানীয় গামহিলাদের সাফ কথা বিপজ্জনক পাওয়ার গ্রিড  হবে না। পুলিশ যাদের মারধর করে তুলে নিয়ে গেছে তাদেরও অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এদিন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। জেলা শাসক পি মোহন গান্ধী বলেন, গ্রামবাসীদের বোঝানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে পুনরায়, পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা এখনও বুঝতে পারছেন না পুরো বিষয়টি। বিভ্রান্তি কাটানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।