দুদিনের বৃষ্টিতে বেহার শহরের রাস্তা, তীব্র ক্ষোভ শহরবাসীর

0
102
শহরের স্টেশন রোডে তোলা চিত্র- নিতাই রক্ষিত
পত্রিকা প্রতিনিধিঃ দুদিনের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের হতশ্রী চেহারাটি বেরিয়ে গিয়েছে। রাস্তার মাঝখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, ইট বেরিয়ে গিয়েছে, কোথাও একফুটেরো বেশী গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের একই অবস্থা। শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেপালি পাড়ায় রাস্তাটি থেকে পিচ উঠে গিয়েছে, ইট পাথর এমন বেরিয়ে রয়েছে চলাই যাচ্ছে না। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেশন রোড, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকবাংলো রোড থেকে জজকোর্ট যাবার রাস্তা ও দেওয়ান বাবার চক থেকে শরৎপল্লী যাবার রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। রাস্তার মাঝেই গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তে জল জমে যাওয়ায় চলাফেরা করাই কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেকপুরার রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ইট বেরিয়ে রয়েছে, যাতায়াত করতেই ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। ২৫ নম্বর ওয়ার্দের স্পিনিং মিল থেকে গোপনন্দিনী পর্যন্ত রাস্তায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও এমন গর্ত, যে৩ কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রবীন্দ্রনগরের বেশ কয়েকটি অলিগলির অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। এমন চিত্র শহরের অন্যান্য রাস্তাগুলিতেও । ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, ওয়ার্ডের অনেক অলিগলি আছে যেখানে বেহাল রাস্তার জন্য যাতাযাত করতে খুব কষ্ট হয়, কাউন্সিলারকে বললেও তিনি কোনও ভ্রুক্ষেপই করেন না। বিভিন্ন ওয়ার্দে এমন বেহাল রাস্তার জন্য ওয়ার্ডের বাসিন্দারা স্থানীয় কাউন্সিলকেই দুষোছেন। শুধু বেহাল রাস্তাই নয়, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার চিত্র প্রকট হল দু’দিনের বৃষ্টিতে। নর্দমাল নোংরা জল রাস্তার উপর দিয়ে বইছে। সিপিএম নেতা সারদা চক্রবর্তী এবিষয়ে বলেন বেহাল রাস্তা, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জলের সংকট, এর পরেও কেউ বলছেন বাংলা এগোচ্ছে, কোনদিক দিয়ে এগোচ্ছে সাধারন মানূষের বোধগম্য হচ্ছে না। বিজেপি নেতা ধীমান কোলে বলেন শুধু মেদিনীপুরই নয় রাস্তাঘাটের এমন হতশ্রী অবস্থা বাংলার সর্বত্র, অথচ উন্নয়ন হচ্চে বলে নিজেদের ঢাক নিজেরাই পেটাচ্ছে রাজ্য সরকার। কংগ্রেস নেতা অনিল শিকারিয়া বলেন মেলা মোচ্ছব, উৎসব, ক্লাবে টাকা দান, এসব করতেই রাজ্য সরকার ব্যস্ত, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিসে ভালো হয় সেদিকে কোনও নজরই নেই। মেদিনীপুর পুরসভার পুরপ্রধান প্রণব বসু এবিষয়ে বলেন, টানা বৃষ্টি হওয়ায় শহরে কোথাও কোথাও জল জমে গিয়েছে। একই দৃশ্য সারা রাজ্যে। বৃষ্টি থেমে গেলে রাস্তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।