কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে তৃণমূল নেতার পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

0
670

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ‘আর নেই দরকার, তোলাবাজ কমিশনার’- ফেসবুকে এই পোস্টটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনার বলতে শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল চন্দ্র দল্বেরাকে বলা হয়েছে। পোস্টটি যিনি করেছেন তিনি বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস দলের কোনও কর্মী সদস্য নয়। খোদ যুব তৃনমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ বসু এই পোস্টটি করেছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন “মেদিনীপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার অনিল চন্দ্র দলবেরার প্রত্যক্ষ মদতে তারই ওয়ার্ডে কমিটির সম্পাদক মুরলী মোহন মান্না ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডে তোলা আদায় সহ বিভিন্ন রকম অপকীর্তি করে চলেছেন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল পুলিশ মুরলীবাবু সহ তাঁর দুই সাকরেদকে থানায় আটক করে নিয়ে যায়। প্রায় ৯ ঘন্টা পরে কাউন্সিলর থানায় গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাঁদের ছাড়িয়ে আনেন। এইসব মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাএর সততা, ত্যাগ আদর্শকে জনাঞ্জলী দিয়ে নিজেদের করেকম্মে খাওয়াতে ব্যস্ত। দলীয় নেতৃত্ব ও জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানাচ্ছি যে, এই মানুষগুলিকে আর কতদিন করে খাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে? অবিলম্বে এই ধরনের লোকদের বিরুদ্ধে দলকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে সব উইপোকার দল দলটাকে নষ্ট করে দেবে। আর নেই দরকার, তোলাবাজ কমিশনার” একজন তৃণমূল যুব নেতা হিসেবে দলেরই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। ফেসবুক পোষ্টটিতে অনেকেই লাইক করেছেন। কমেন্টে কেউ কেউ সোউরভবাবুর এমন পোষ্টকে সমর্থনও করেছেন । শান্তনু আচার্য্য নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী কেওমেন্টে লিখেছেন দলে থেকে দলের দুর্নীতি সর্ব সমক্ষে প্রকাশ করে সৎসাহস দেখিয়েছে সৌরভ বসু। নবীন জানা লিখেছেন তাদের গলায় দড়ি বেঁধে পিঠে পোষ্টার ঝোলানোর কথা বলেছেন। রাজীব মান্না নামে আর এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখছেন চোরের মায়ের বড়ো গলা, ভেগে কি একটু কম পরেছে দাদা?’ ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্মাল্য চক্রবর্তী কমেন্টে লিখেছেন, দলের বিষয় এইভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে না বলাই ভালো’। যদিও বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না তৃণমূলের নেতারা। তৃণমূলের শহর সভাপতি তথা বিধায়ক আশিস চক্রবর্তী জানান সোস্যাল মিডিয়ায় এমন পোষ্ট না হলেই ভালো হত, আমি দুপক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনা করবো। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি জানিয়েছেন দলের কর্মী হয়ে দলের কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে সোস্যাল মিডিয়ায় এভাবে পোষ্ট করে অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছেন সৌরভ, ক্ষোভ থাকলে দলের ভেতরে জানাতে পারতেন। দলীয় শৃঙ্খলা না মানলে দল ব্যবস্থা নেবে। যদিও সৌরভবাবু জানান বিষয়টি তিন বছর ধরে তৃণমূলের জেলার সমস্ত নেতা-বিধায়ককে বলা হয়েছে, অথচ তাঁরা কোনও ব্যবস্থা না নেওয়াতেই বাধ্য হয়ে ফেসবুকে পোষ্ট করেছি এবং আমি এটা করে কোনও অন্যায় করিনি। এইদিকে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অনিল চন্দ্র দলবেরা জানান বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছি, দল ব্যবস্থা না নিলে শীঘ্রই আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। যদিও মুরলী মোহন মান্ন, মুকুন্দ মণ্ডল, গৌতম ডগরা, দিবাকর পাল ও যুগল কিশোর ভূঁঞ্যা জানান, আমরা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বিবেকানন্দ নগরের অধিবাসী হইতেছি। আমাদের বিবেকানন্দ নগর উন্নয়ন সমিতি ১৯৯৬ সালে গঠিত হয়। গঠন হওয়ার পর থেকে অধিবাসীদের আর্থিক সাহায্যে পাড়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর বিভিন্ন উন্নয়নমূল্ক কাজ করে আসছেন। এছাড়া এম কে ডি এ- এর চেয়ারম্যান এবং বিধায়ক মৃগেন্দ্রনাথ মাইতির বদন্যতায় এলাকায় ড্রেন ও রাস্তা নির্মানের কাজ চলছে। আমরা দীর্ঘ ২০ বৎসর ধরে পাড়ায় শ্রী শ্রী শ্যামা পুজার আয়োজন করে আসছি। এই পূজা কার্য সম্পন্ন হয় পাড়ার অধিবাসীদের আর্থিক সাহায্যে। কয়েকদিন আগে উন্নয়ন কমিটির সাধারন সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে এ বৎসর শ্যামা পুজা ও তৎসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তার জন্য পরিবার পিছু ৯০০ (নয় শত) টাকা চাঁদা ধার্য্য করা হয়, সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে। বর্তমানে এম কে ডি এ-র মাধ্যমে যে রাস্তা ও ড্রেন তৈরি হচ্ছে সেই রাস্তায় তিনটি ইলেকট্রিক খুঁটি রাস্তার মাঝ বরাবর পোঁতা ছিল। সেই খুটিগুলি সঠিক জায়গায় বসানোর জন্য আমরা কমিটিগত ভাবে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রিক দফতরে আবেদন করি। সেই মোতাবেগ দফতর কোটেশান তোইরি করে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকার ইচ্ছুক ব্যাক্তিগণের নিকট হইতে টাকা সংগ্রহ করা হয়। এই সমস্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অনিলচন্দ্র দলবেরার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত নাই। এই সমস্ত ব্যাপারে আমরা উন্নয়ন কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। কারণ এটা আমাদের পাড়ার উন্নয়নের ব্যাপার। 

এমতাবস্থায় গত ২ অক্টোবর ২০১৭ রাত ১১ঃ২০ মিনিট নাগাদ থানার একজন কর্মী মারফৎ তিনজনকে থানায় তলব করা হয়। বলা হয় পরের দিন থানায় দেখা করতে। সেইমতো আমাদের মধ্যে তিনজন কোতোয়ালি থানায় গেলে তাদের বসিয়ে রাখা হয়। একথা জন্তে পেরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এই তিনজনকে থানা থেকে আনার ব্যবস্থা করেন।