বিভিন্ন দাবি পূরণ না হওয়ায় আদিবাসী মানুষজনের ব্যাপক সমাবেশ, স্তব্ধ হ’ল শহর

0
317

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ সাঁওতালি মাধ্যম বিদ্যালয়ে অলচিকির শিক্ষক নিয়োগ, বুক ডে তে বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাঁওতালি মাধ্যমের প্রশ্নপত্র অলচিকি লিপিতে করা সিলেবাস কমিটি ও সাঁওতালি ভাষার পঠন-পাঠনের জন্য পৃথক শিক্ষা পর্ষদ গঠন প্রভৃতি দাবিতে সোমবার জেলাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন, রাস্তা অবরোধ, ও জেলা শাসককে ডেপুটেশন দিল ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল ও আদিবাসী কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার আদিবাসী মানুষজনের আগমনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরের প্রাণকেন্দ্র স্তব্ধ হয়ে যায়। সংগঠনের বক্তব্য, অলচিকি হরফে পঠন পাঠন খাতায় কলমেই শুরু হয়েছে মাত্র। সিংহভাগ স্কুলে পাঠদানের জন্য শিক্ষ-শিক্ষিকা নেই, সিলেবাসও সঠিক ভাবে তৈরি হয়নি। সিলেবাস কমিটিও নেই। সংগঠনের পক্ষে অর্জুন হেমরম ও রবীন টুডু বলেন, একই দাবি নিয়ে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে। জেলা শাসকদের ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। রাজ্যপালও মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই এই কর্মসূচি। তাঁদের কাছেও দাবিপত্র পাঠনো হয়েছে। দ্রুত আমাদের সমস্যা সমাধ্যানের উদ্যোগ নেওয়া না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দের বক্তব্য বামেদের আমলেও আমরা বঞ্চিত হয়েছিলাম। বারবার আবেদন নিবেদন করলেও বাম সরকারের আমলে তেমন ভাবে দেখা হয়নি। নতুন সরকার আসার আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু এত বছর পরেও আমাদের সামাজিত ও অর্থনৈতিক উন্নতি হয়নি। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে আদিবাসীদের দাবি মেনে অলচিকি লিপিতে পঠন পাঠন শুরু করা হয়েছে। অথচ বই নেই, শিক্ষক নেই, সিলেবাস নেই, কাগজে কলমে চালু হলেই কি হয়ে গেল ? আদিবাসীদের এই দাবি অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও একই দাবি নিয়ে তাঁরা প্রতিটি জেলায় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। সোমবার জেলার প্রতিটি ব্লকে থেকে কয়েক হাজার আদিবাসী মানুষজন টাঙ্গি, তিরধনুক, লাঠি নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন। দীর্ঘক্ষণ ধরে কালেক্টরেট মোড় অবরোধ করে রাখেন। অবরোঢে বাস, লরি, অটো, টোটো অন্যান্য চারচাকার গারি আটকে যায়। পরে অবরোধ উঠে গেলেও যাঞ্জট কাটাতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। যদিও কয়েকশ গারিতে করে সমর্থকরা এলেও গাড়িগুলি শহরের বিভিন্ন প্রান্ত রাখা হয়েছিল।

রবীনবাবু জানান গত ১৫ তারিখে জেলায় জেলায় বিডিওদের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছিল। এবার জেলাশাসকদের । এদিনের কর্মসূচিতে অর্জুনবাবু ও রবীনবাবু ছাড়াও ছিলেন রাইসেন হাঁসদা, জয়রাম কিস্কু, কেশব সরেন, দিলীপ মান্ডি, সুবোধ হেমরম প্রমুখ। ছিলেন সমস্ত ব্লকের নেতৃত্বরাও।

এদিন ঝাড়গ্রাম জেলার জেলাশাসকেও একই ভাবে এই সব দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে।