আপনারা উতসবের মেজাজে ভোট দিন, শাল্বনির প্রচার সভায় বললেন সুব্রত বক্সী

0
551

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ ভোট প্রচারে দলের জেলা নেতৃত্ব তো প্রচার করছেন, এবার দিন যতই এগোচ্ছে ততই তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব জেলা সফরে আসছেন। শুক্রবার শালবনিতে দলের প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। তিনি বলেন, “আপনারা উতসবের মেজাজে ভোট দিন। আগামী ১৪ মে যথারীতি নির্বাচন হবে। বিরোধীরা ভোটকে ভয় পায় বলেই আদালতে মামলা করেই চলেছে। তবে তাতে বাধা হবে না। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা মতোই নির্ধারিত এক দিনেই গোটা রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে। এদিন সভায় সুব্রতবাবু বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য এত বেশি উন্নয়ন্মূলক প্রকল্প সারা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছাত্র, যুব থেকে শুরু করে গরীব মানুষের জন্য বহুপ্রকল্প গ্রহণ করেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উন্নয়ন্মূলক কাজের সাফল্য তুলে ধরলেই নির্বাচনে সাফল্য আসবে। বিজেপির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওঁরা উন্নয়ন দেখতে পান না। শুধু কুৎসা ও অপপ্রচার করে। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ভাবাবেগ তৈরি করে ভাদাভেদের চেষ্টা করে। তবে এরাজ্যের মানুষ বিজেপিকে কোথাও জায়গা করে দেবে না । জনসভায় তৃণমুলের রাজ্য সভাপতি এও বলেন, সিপিএম এখন বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে। প্রকাশ্যে আঁতাত করেছে না, ভিতরে ভিতরে সিপিএমের সহযোগিতা নিয়ে বিজেপি নির্বাচনে লড়াই করছে। এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি উত্তরা সিংহ, বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাত, পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি তথা এবার জেলা পরিষদ প্রার্থী নেপাল সিংহ তৃণমুল নেতা দেবাশিস চৌধুরী প্রমুখ। এদিকে শুক্রবার গোপীবল্লবপুর ১ নম্বর ব্লকের জগন্নাথপুরে তৃণমুলের প্রচায় সভায় বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূলের সাংসদ মানস ভূঞ্যা। তিনি বলেন ৩৪ বছর ধরে যারা বাংলাকে শোষণ করছে, ধ্বংস করে দিয়েছে, এখন সেই মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির গোডাউন থেকে প্রার্থী তুলে এনে পদ্মফুল চিহ্নে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। তাই এদেরকে একটিও ভোট দেবেন না। মানসবাবু আরও বলেন, সবুজ সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলের ছেলে মেয়েদের সাইকেল দেওয়া চলছে। আমরা সব বিভেদ ভুলে উন্নয়ন করছি। কে সিপিএম, কে কংগ্রেস, কে বিজেপি দেখা হয় না। আমাদের সরকার সবাইকে সাইকেল দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষজনকে এক সঙ্গে নিয়ে থাকতে চান। আর বিজেপি বিভেদের রাজনীতি করছে। সিপিএম রাতের বেলায় পুলিশের পোষাক পরে এলাকায় কংগ্রেস ঝাড়খণ্ড পার্টীর নরেনের লোকজনদের মারধর করতো, মেরে মাটিতে পুঁতে রেখে দিত। দুটাকা কেজি দরের চাল, কন্যাশ্রীর টাকা, সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল সব বিভিন্ন প্রকল্পগুলিকে বন্ধ করে দিতে চাইছে বিরোধীরা। আবার সেই ছত্রিশগড় থেকে মাওবাদীদের নিয়ে এসে জঙ্গলমহলে অশান্তি করা চেষ্টা করছে। আগেকার সেই কালো দিন ফেরানোর চেষ্টা করছে। তাই বলছি একটাই প্রতীক, একটাই নেত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখে ভোট দেবেন। এদিনের এই সভা উপস্থিত  ছিলেন নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু, নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও এবার বিনপুরের জেলা পরিষদের প্রার্থী উজ্জ্বল দত্ত, জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি সত্যরঞ্জন বারিক প্রমুখ।