কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হয়েছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের গণনা, বিবিধ ব্যবস্থা কমিশনের

0
127

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ আজ দেশের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন।  কড়া নিরাপত্তায় চলবে ভোট গণনা। আজকের দিনটির দিকে তাকিয়ে সমগ্র দেশবাসী। কে বসতে চলেছেন ক্ষমতার আসনে তার উত্তর পেতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আজ সকাল থেকেই ধীরে ধীরে সেই উত্তরের দিকেই এগোবে দেশ। আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

সারা দেশের সঙ্গে মেদিনীপুর ঘাটাল, তমলুক ও কাঁথি কেন্দ্রেও কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের গণনা কেন্দ্র খড়গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় ২, ঘাটাল কেন্দ্রের গণনা হবে ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী কলেজে। ঝাড়গ্রামের গণনা হবে ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজে, তমলুক কেন্দ্রের গণনা হবে কোলাঘাটের কেপিপি হাইস্কুলে এবং কাঁথি কেন্দ্রের গণনা হবে প্রভাত কুমার কলেজে। প্রতিটি গণনা কেন্দ্রেই রয়েছে ত্রিস্তরীয় কড়া নিরাপত্তা।

প্রথমে  ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখার শপথ গ্রহন করবেন রিটার্নিং অফিসার এবং অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসাররা। গণনার ঠিক আগে তাঁরা সেই শপথ বাক্য জোর উচ্চারণও করবেন। গণনার আগে ইভিএম মেসিনগুলি পরীক্ষা করে নেওয়া হবে। রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতেই হবে এই পরীক্ষা। গণনা কেন্দ্রে কাউন্টিং এজেন্ট সহ প্রার্থীদের উপস্থিত থাকার অধিকার রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে গণনা হবে মোট পাঁচটি পদ্ধতিতে। প্রথমে গণনা হবে পোস্টার ব্যালট। এরপর গণনা হবে ইভিএম। গণনা কেন্দ্রে রয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। পোস্টাল ব্যালট গণনার পর গণনা হবে সার্ভিস ভোটারদের ভোট। তিনটি খামের ভিতরে থাকবে পোস্টার ব্যালট। প্রথমে খোলা হবে বাইরের খাম। তারপরের খামের ভেতরে থাকবে সার্ভিস ভোটারদের ডিক্লেয়াররেশন এবং তৃতীয় খামে থাকবে পোস্টাল ব্যালট। এই খামে পোস্টাল ব্যালটের সঙ্গে থাকবে কিউ আর কোড। এই কোডকে স্ক্যান করা হবে। যদি স্ক্যান মিলে যায় তবেই এই ভোট গণনা করা হবে। এরপরই গণনা করা হবে ইভিএম। ইভিএম-এর সঙ্গে থাকা কন্ট্রোল ইউনিট নিয়ে আসা হবে স্ট্রংরুম থেকে প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে যার ভিতর কাউন্টিং হল থাকবে সেখানে সাতটি বিধানসভার প্রতিটিতে ১৪টি টেবিলে ১৫ থেকে ১৬ রাউন্ডে গণনা হবে। এই ক্ষেত্রে যদি কোনও কন্ট্রোল ইউনিট বিগড়ে যায় তখন সেই কন্ট্রোল ইউনিটের ভিভিপ্যাট গণনা করা হবে। কন্ট্রোল ইউনিট গণনা শেষ হলে তারপর শুরু হবে ভিভিপ্যাটের গণনা। লটারির মাধ্যমে প্রত্যেক বিধানসভা থেকে পাঁচটি করে ভিভিপ্যাট স্ট্রংরুম থেকে নিয়ে আসা হবে। কাউন্টিং হলের ভেতর। তবে গণনা হবে একই সঙ্গেই।

কোনও প্রার্থী রিকাউন্টিং চাইতে পারেন। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত ভাবে কারণ দেখিয়ে আবেদন করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার চাইলে তা গ্রাহ্য করতেও পারেন আবার নাও পারেন। এভাবেই চলবে ভোট গণনা।

প্রতিটি স্ট্রংরুমে থাকবে প্যারা মিলিটারি ফোর্স। স্ট্রংরুমের লাগোয়া থাকবে কাউন্টিং হল। কাউন্টিং হলের ভেতর থাকবে সি এ পি এফ। একটি রাউন্ডের গণনা শেষ হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসার সেই ফলাফল বোর্ডে লিখে দেবেই, অন্যদিকে বাইরে মাইকের সাহায্যে তা ঘোষনা করা হবে। ঘোষনা শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য স্ট্রং রুম থেকে নতুন কন্ট্রোল ইউনিট  আনা হবে কাউন্টিং হলের বাইরে থাকবে রাজ্য পুলিশের সমস্ত বাহিনী। এর বাইরে থাকবে কেবল মাত্র সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের বসার জায়গা। ওই জায়গা থেকে একশো মিটার দূরে থাকবেন পুলিশ আধিকারিক ও মেজিস্ট্রেট পর্যায়ের আধিকারিকরা। ওই চত্বরে কোনও গাড়ি চলাচল করবে না। সাধারণ মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারবেন। ওই জোনের উপর ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। কোনও বিশৃঙ্খলা রুখতে কড়া নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে বুধবার থেকেই দলীয় কর্মীরা গণনা কেন্দ্রে ভিড় করছেন। ইভিএম পরিবর্তন ও ইভিএম হ্যাক হতে পারে এই আশঙ্কায় দলীয় কর্মীরাও পাহারা দিচ্ছেন। স্ট্রংরুমের বাইরে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মীরা দিনে রাতে পালা করে দিচ্ছেন পাহারা। সরকারি ভাবে স্ট্রং রুমের ভিতর ও বাইরেটা সিসিটিভি ও বাইরেটা সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।