ঝাড়গ্রাম জেলা এত পিছিয়ে কেন, জনপ্রতিনিধি থেকে ডি এম, এস পি সবাইকে ধমক মমতার

0
601

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নিজেদের ঘর শক্ত করতে দু’দিনের সফরে ঝাড়গ্রাম সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রামে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক বৈঠোক থেকে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সহ সরকারি আধিকারিকদের দাঁড় করিয়ে কাজে ঘাটতি নিয়ে কড়া ভাষায় ধমক দিলের তিনি। জানতে চাইলেন জেলার উন্নয়নের ক্ষতিয়ান। 

দুর্গোপুজো শেষ হতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহল দিয়ে শুরু করলেন জেলা সফর। কালীপুজোর ঠিক এক সপ্তাহ আগে এদিন ঝাড়গ্রেম প্রশাসনি সভা করলেন তিনি। প্রশাসনিক বৈথকের পাশাপাশি, পালিত হয়েছে বিজয়া সম্মিলনী। আজ, বুধবার ঝাড়গ্রামে একটি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। এই জনসভায় একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি আরও একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি। 

মুখ্যমন্ত্রীর জনগলমহল সফরের শুরুতেই মুকুল ছায়া তাড়া করে বেড়াতে শুরু করল তৃণমূলকে। মুকুল রায় দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরই পুজোর পর জঙ্গলমহল সফরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহলে মুকুলপন্থীদের উচিত শিক্ষা দিয়ে দলের সংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করাই এই সফরের উদ্ধেশ্য বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। 

আর সেই কাজ মমতা ঝাড়গ্রাম জেলা সফরে প্রথম থেকেই শুরু করে দিয়েছেন। প্রশাসনিক বৈথকে মন্ত্রী চূড়ামণি মাহাতোকে দাঁড় করিয়ে ধমক দেন তিনি। মন্ত্রীকে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে থাকলে চলবে না। মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। জনসংযোগ তৈরি করতে হবে’। এখানের শেষ হয়নি মন্ত্রীকে ধমক । তিনি সকলের সামনেই মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আগে তো চাষ করতে, এখন কী কর। বিধায়ক হয়েও এলাকার উন্নয়নে লক্ষ্য নেই কেন। আমার কাছে সব খবর আছে। এখনও সময় আছে, সাবধান হও। আমি এসব বরদাস্ত করব না।’

এরপর চূড়ামনি মাহাতোকে ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর জায়গায় অজিত মাইতিকে সভাপতি করা হয়।, এর পিছনে মুকুল-যোগই দেখছে রাজনৈতিক মহল। মেননা চুড়ামণি মাহাতো মুকুল রায় ঘনিষ্ট বলে পরিচিত। তিনি এলাকায় আলাদা দল করার চেষ্টা করছেন বলে খবর ছিল। তারই প্রতিফলন ঘটল এদিনের বৈঠকে। তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে সতর্ক করা হল। এরপরও সোজা রাস্তায় না এলে তৃণমূল অন্য কিছু ভাববে বলেই মানে করা হচ্ছে। 

মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই ছিলেন কড়া মেজাজে। প্রশাসনিক সভায় সরকারের সমস্ত বিভাগের আধিকারিকদের কাছে কাজের খতিয়ান নেন। বিভিন্ন কাজে অখুশি মমতা বলেন, যখন জেলার মিটিং করতে আসে, তার সাতদিন আগে থেকে কাজ শুরু করেন আপনারা। এসব চলবে না। সারা বছর ধরে কাজের ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে। কাজটা যদি নিয়মিত ধারাবাহিকতা মেনে করা হত, তাহলে জেলার এই শোচনীয় অবস্থা হত না। কেন পিছিয়ে পড়েছে ঝাড়গ্রাম? জেলাশাসক থেকে শুরু করে বিডিও, জেলা পরিষদ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত-সমস্ত আধিকারিকদের স্মালোচনায় বিদ্ধ করেন মুখ্যমন্ত্রী আরও, বলেন এই জেলায় ফের বৈকে আসতে হল। উন্নয়ন্মূলক কাজ হচ্ছে না বলেই। কেন এত বাজে পারফরম্যান্স? এইটুকু তো জেলা । কেন সঠিক প্লানিং হচ্ছেনা ? প্লানিং ও ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক মতো হচ্ছে না বলেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কোথায় সমস্যা আমাকে জানান। 

তিনি এদিন বিডিওদের জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা মিড ডে মিল সেন্টারগুলিতে ধারাবাহিকভাবে পরিদর্শন করেন কিনা ? কেন তা নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় না, জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তিন বলেন , ছোট্ট এইটুকু জেলায় প্রতি মাসে ভিজিট করতে হবে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে জিজ্ঞাস করেন আপনারা পাবলিক মিট করেন ? নিয়মিক্ত পাব্লিক মিট করে যদি, রামকৃষ্ণ মিশনের সমস্যাটা মেটাতে এত টাইম লাগল কেন? পাল্টা প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এরপরই মমতার সমালোচনা, ‘যেখানে ডি এম – এস্ পি-রা সমস্যা সমাধান করতে পারেন না, সেখানে অযথা সময় নষ্ট হয়। সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বিডিওদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে জেলা শাসককে। তিনি বলেন, ‘ জেলাশাসকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পুলিশ সুপারকেও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন জেলার ডি এম , এস পি-রা সরকারের মুখ। তাঁদের পারফরম্যান্স খারাপ হওয়া মানে সরকারের বদনাম।’ সেই সঙ্গে বিডিওদের নির্দেশ দেন, কাজ কম হলে বিডিওদের দায়িত্ব নিতে হবে। 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই জেলা পিছিয়ে পড়েছে বলেই ফের আসতে হল। খড়গপুরে কয়েকদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক বৈঠক হয়। ফের আসার কারণ ধারাবাহিকতার অভাব। এই সমস্যা কাটাতে ধারাবাহিক হতে হরে। ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে সারা বছর।