জঙ্গলমহলের উন্নয়ন-চিত্র তুলে পঞ্চায়েত ভোটের দামামা বাজালেন মুখ্যমন্ত্রী

0
312

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ বেলপাহাড়ীতে প্রশাসনিক জন সভায় যোগ দিতে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং সিপিএম ও কংগ্রেসকে এক হাত নিয়ে প্রাক পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঘন্টা বাজিয়ে দিলেন। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমি লিখিত ভাবে জানিয়েছ গরীব ও সাধারন মানুষের টাকা হজম করা চলবে না। কেন্দ্রের এফ আর ডি বিল নিয়ে একথা বলেন মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ওদের একদম কেউ আপনারা ভোট দেবেন না। জঙ্গলমহল ছাড়া কোনও কাজ সম্পূর্ণ হয় না। শুধু বাংলা নয় সারা দেশ সারা বিশ্বের কাছে জঙ্গলমহল গর্বের জায়গায় দাঁড়াবে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নোট বন্দির কারনে মহারাষ্ট্রে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে। ওরা মানুষকে সর্বশান্ত করেছে। বাংলার মানুষ ভালো আছে ওরা এটা চাইছে না। আমাদের সরকারকে আপনারা কেউ ভূল বুঝবেন না। যাঁরা এক সময় মাওবাদী করত তারা আজ জঙ্গলমহলের শান্তি রক্ষা করছে। তারা উন্নয়নে সামিল হয়েছে। সমাজের মুল স্রোতে ফিরে এসে তারা আজ পুলিশের চাকুরী করছে। বিগত বাম সরকারের আমলে ৪৮ হাজার কোটি টাকা দেনা মাথায় নিয়ে এই সরকার জনগনের কাজ করে চলেছে। আমরা বাসমতী চালের ভাত খাওয়াতে পারিনি কিন্তু মোটা ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করেছি। ঝাড়্গ্রাম জেলা ঘোষনা হওয়ার পর এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিতীয় বার জঙ্গলমহল সফর। এর আগে ২০১৭ সালে ১৪ অক্টোবর প্রশাসনিক বৈঠক ও বিজয়া সন্মেলনীতে যোগদিতে এসেছিলে মুখ্যমন্ত্রী।  চার মাসের ব্যবধানে ফের তিনি জঙ্গলমহলে এলেন। ঝাড়্গ্রাম জেলা ভাগের পর প্রথমবার জঙ্গলমহল সফরে এসে রাজ্যের মন্ত্রী চুড়ামনি মাহাত ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের কর্মকর্তাদের ব্যাপক ধমক চমক দিয়েছিলেন। ধমক খেয়েছিলেন জেলা শাসক আর অর্জুন। সেই সময় তড়িঘড়ি চুড়ামনি মাহাতকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে তার জায়গায় অজিত মাইতিকে বসানো হয়। সেই প্রশাসনিক বৈঠক ও সভার চার মাস পার হতে না হতেই আবারও হাজির হলেন জঙ্গলমহলে। বৃ্হস্পতিবার দুপুর ১টা বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ আকাশ পথে বেলপাহাড়ীর প্রশাসনিক জনসভায় এসে পৌছান। সড়ক পথে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও এদিন তিনি আকাশ পথেই বেলপাহাড়ীতে আসেন। এই প্রশাসনিক জনসভা থেকে ১৮৫ কোটি ৮৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যায়ে ২৮২ টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। এবং ৩৮ কোটি ৭৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ব্যায়ে ২০৬ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও কয়েক হাজার উপভোক্তার হাতে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা তুলে দেন। পাশাপাশি এদিন তিনি ২০১০ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি শিলদা ই এফ আর ক্যাম্পে মাওবাদী হামলায় ২৪ জন জওয়ান নিহত হয়। সেই শহিদ জওয়ানদের স্মৃতি তর্পণে মাল্যদান করে সেলুট জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি আরও বলেন, কুর্মি জাতিকে এস টি তালিকা ভুক্ত করার জন্য আমরা ক্যাবিনেটে বিল পাস করে কেন্দ্রকে পাঠিয়েছি। কেন্দ্র অনুমদন দিলেই কুর্মি জাতি ও এস টি তালিকা ভুক্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন এর আগে ১৯৯২ – ৯৩ সালে আমি এই বেলপাহাড়ীতে এসেছিলাম। তখন দেখেছি এই বেলপাহাড়ীর কি অবস্থা ছিল। তখন বেলপাহাড়ী থেকে বাইকে চেপে এক জনসংযোগ যাত্রা করে জো গ্রামে গিয়েছিলাম সেখানে দেখেছিলাম এই এলাকার মানুষ পিঁপড়ের ডিম আর গাছের মুল খেয়ে জীবন যাপন করতেন। ওই সময় আমি বিষয়টি সবার দৃষ্টি গোচর করলে আমাকে অনেকে ব্যাঙ্গ বিদ্রূপ করেছিল। পরে একটা সময়ে এই বেলপাহাড়ী, জাম্বনী, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, বিনপুর, লালগড়, বাঁশপাহাড়ী, লোধাশুলি এলাকার মানুষজনেরা কি উপরিস্থিতর স্বীকার হয়েছিলেন। সন্ধ্যার রাস্তায় বের হতে পারতেন না। মানুষ এক সময় পাহাড়ে যেতে ভয় পেত আর এদিকে জঙ্গলমহলের নাম শুনলেই চমকে উঠত। এরপরেই তিনি উন্নয়নের ক্ষতিয়ান তুলে ধরে বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২ টাকা কেজি চাল দেওয়া শুরু করা হয়েছে। আমাদের সরকার কৃষকদের জন্য কৃষি ঋন মুকুব করার পশাপশি জিমির মিউটেশন ফিও লাগবে না। কন্যাশ্রীদের ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার করা হয়েছে।উচ্চ শিক্ষায় কন্যাশ্রীরা বিঞ্জান নিয়ে পড়লে সাড়ে তিন হাজার এবং কলা নিয়ে পড়লে দু হাজার টাকা পাবে। সবুজসাথী প্রকল্পে সত্তর লক্ষ সাইকেল দেওয়া হচ্ছে।পঞ্চাশ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্দী মানুষদের ভাতা এক হাজার টাকা করা হয়েছে। পঁয়ত্রিশ হাজার পুলিশে নেওয়া হয়েছে।জঙ্গলমহল অ্যাকশন প্ল্যানে একশো দশ কোটি টাকায় জলতীর্থ প্রকল্পে ড্যাম সহ বিভিন্ন কাজ হয়েছে। সাড়ে তিনশো আত্ম সমর্পনকারী মাওবাদী জাতীয় প্রকল্পের আওতায় এসে হোম গার্ডের চাকরি করছে। ২৫ লক্ষ বাড়ি বাংলা আবাস যোজনায় হয়েছে।২৩ হাজার কিমি গ্রামিন রাস্তার পর আরো তেরো হাজার কিমি রাস্তা গ্রামীন রাস্তার সুচনা হয়েছে।এক লক্ষ ৯০ হাজার শিল্পী রাজ্য সরকারের তরফে ভাতা পাচ্ছে ।দশ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে এবছর। আশা কর্মী এবং ওঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি হয়েছে। দেশে এবং বিদেশে আদিবাসীদের পড়াশুনার জন্য স্বল্প সুদে দশ লক্ষ এবং কুড়ি লক্ষ টাকা ঋন দেওয়া হচ্ছে।  শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ষাট বছরের পর ভাতা দেওয়া হচ্ছে। রূপশ্রী প্রকল্পে বিবাহযোগ্য ৬ লক্ষ মেয়ের পরিবার বিবাহের সময় এক কালিন পঁচিশ হাজার টাকা পাবে। সব মিলিয়ে এদিনও  মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কল্পতরু।কুড়ি হাজার মানুষ এদিন সভাস্থল থেকে কোন কোন না পরিষেবা নিয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরলেন। এদিন উল্লখ্য যোগ্য পরিষেবা গুলি হল —১১০ কোটি টাকায় জঙ্গলমহল অ্যাকশান প্ল্যানে জলতীর্থ প্রকল্প।৭০ লক্ষ সাইকেল সবুজসাথী প্রকল্পে। ৬ লক্ষ রূপশ্রী প্রকল্পের আওতায়।২৫ লক্ষ বাংলা আবাস যোজনা। এবছর দশ লক্ষ কর্মসংস্থান।৩৫০ আত্মসমর্পনকারী মাওবাদী জাতীয় প্রকল্পের আওতায় হোমগার্ডের চাকরি করছে।পঁয়ত্রিশ হাজার পুলিশে চাকরি করছে। কৃষকদের খাজনা মুকুব হয়েছে।১ লক্ষ ৯০ হাজার শিল্পী ভাতা পাচ্ছেন।কৃষকদের অভাবি বিক্রি ঠেকাতে একশো কোটি টাকার তহবিল করবে রাজ্য।