সবংয়ে গোষ্ঠী কন্দোলের ফাঁদে তৃণমূল, উদ্ধার প্রচুর গুলি-বোমা, মৃত ১ আহত ৫

0
253

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন পাশের জেলা ঝাড়গ্রাম সফরে এসেছেন তখন তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল সবংয়ে দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের খাউখাণ্ডায়। সোমবার সকালে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গুলি-বোমা নিয়ে সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে বোমার আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। যখম আরও ৫ জন। সকলকে সবং হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম কার্তিক মণ্ডল (৩৫)। পুলিশ ওই ঘটনার পর তল্লাশি চালায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। উদ্ধার করে প্রচুর বোমা। 

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বুথ তৃণমুলের এক সভাকে ঘিরে। সাংসদ মানস ভূঁঞ্যা সবংয়ের অডিটরিয়ামে ঐ সভায় ছিলেন প্রধান বক্তা । অভিযোগ, ঐ সভায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গোলমাল বাঁধে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্চিতা বাগের বাড়িতে গৌতম মণ্ডলকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে মারধর করা হয়। আবার রঞ্জন ঘোড়ইকে মারধর করা হয় তাঁর বাড়িতে। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। সোমবার মাছ ব্যবসায়ী গৌতম হাজরাকে রাস্তায় পেয়ে কয়েকজন মারধর করে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। এক পক্ষ অপর পক্ষের সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও বোমা ছোঁড়ে। বোমার আঘাতেই কার্তিক মণ্ডলের মৃত্যু হয়। পুলিশ গ্রামে পৌঁছায় প্রায় দেড় ঘন্টা পর। তাতে পুলিশকে ঘিরে গ্রামের বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান। দাবি জানান, তল্লাশি করে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। পুলিশি তল্লাশিতে একজনের বাড়ি থেকে দু’বস্তা বোমা উদ্ধার হয়। পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪টি বোমা ভরা ব্যাগ। স্থানীয় একটি জায়গা থেকে উদ্ধার হয় আরও বোমা ভর্তি কয়েকটি ড্রাম। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলে রয়েছে অমূল্য মাইতি। তিনি বর্তমানে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ। এক সময় কংগ্রেস করলেও কয়েকমাস আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মানস ভূঁঞ্যা । বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। কার্যত সবংয়ে আদি ও নব্য তৃণমূলের গোষ্ঠীদন্দ্ব এখন চরমে। 

সবংয়ের কয়েকটি অঞ্চলে এনিয়ে আগেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু দশগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে প্রথম তৃণমূল কর্মী খুন হলেন। এনিয়ে অমূল্যবাবু বলেন, গাম্য বিবাদ, ইগোর লড়াই ও তৎকাল তৃণমূলে বনাম আদি তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মানসবাবু জানিয়েছেন, দলের একজন খুন হয়েছেন। খুনের ঘটনা গ্রাম্য বিবাদ, রাজনীতির রঙ নেই। ঘটনায় জড়িতরা যাতে শাস্তি পায় তা নিয়ে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।