দুই মহিলার মোবাইল ও ব্যাগ ছিনতাই, বাড়ছে অন্যান্য চুরির ঘটনাও , নিষ্ক্রিয় পুলিশ

0
2188

পত্রিকা প্রতিনিধিঃ মেদিনীপুর শহরে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে যাওয়াতে খুবই উদ্বিগ্ন শহরবাসী। দিনের বেলায় কখনও শহরের নির্জন রাস্তাঘাট, কখনও জনবহুল এলাকা থেকে মোবাইল, সোনার হার, ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। রবিবার শহরের রবীন্দ্রনগরে এই মহিলা মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দুই দুষ্কৃতী। নজরগঞ্জের বাসিন্দা সুইটি দাস সাইকেলে করে রবীন্দ্রনগরে এসেছিলেন। সেই সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যখন মোবাইলে কথা বলছিলেন তিনি, পেছন থেকে দুই যুবক একটি বাইকে করে এসে মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মহিলা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন রবীন্দ্রনগরে যেখানে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে এক দোকানের সিসিটিভি থেকে দুই যুবকের মুখ এবং বাইকের নম্বর স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ হাতে নিয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। অপরদিকে এদিনই শহরের জগন্নাথমন্দির ও জুগনিতলার মাঝে সাইজি আস্তানার কাছে আরও একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মহতাবপুরের গণপতি নগরের বাসিন্দা অর্চনা রানা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে সন্ধ্যের সময় যাচ্ছিলেন। সেসময় পেছন থেকে একটি বাইকে তিন যুবক এসে মহিলার কাঁধ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। যুবকদের সঙ্গে প্রাথমিক ধাক্কাধাক্কিতে মহিলা মাটিতে পড়ে যান। মহিলার বক্তব্য ব্যাগে মোবাইল, টাকা, এটিএম কার্ড ও কিছু গয়না ছিল। তিনি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শহরের বিভিন্ন প্রান্ত এমন মোবাইল, ব্যাগ ছিনতাই কিংবা বাইক, সাইকেল চুরির ঘটনা নিত্যদিন লেগেই রয়েছে। কেন এসব ঘটছে? শহরের বেশিরভাগ মানুষের বক্তব্য, শহরে মদ, জুয়ার রমরমা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে, আর সেই সবের সঙ্গে যুক্ত যুবকরই কাঁচা পয়সার জন্য এসব করে বেড়াচ্ছে। শহরবাসী এর জন্য পুলিশকেও দূষতে ছাড়েন নি। তাদের বক্তব্য পুলিশ কোথায় মদ জুয়ার আসর বসে তা সব জানে, অথচ পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়াতেই ছিনতাইবাজ কিংবা বাইক চোররা আস্কারা পেয়ে যাচ্ছে। শহরের ব্যবসায়ী দিলীপ দাস সহ আরও অনেকের বক্তব্য, এইসব চুরি ছিনতাই বন্ধ করতে হলে পুলিশকে কড়া নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষিকা সোমা চট্টরাজ বললেন, সন্ধ্যা কিংবা দিনের বেলায়ও শহরের নির্জন জায়গাগুলো নিরাপদ নয়, সেসব জায়গায় পুলিশ মোতায়েন কিংবা সিসিটিভি লাগানো প্রয়োজন। শহরবাসী দীপঙ্কর দেবনাথ, বিজয় বেহেরা, অরূপ নন্দীরা বললেন, মদ জুয়ার রমরমা কারবার বন্ধ না হলে এইসব চুরি ছিনতাই কিছুতেই বন্ধ করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন মহলের জোরালো অভিযোগ, শুধু মোবাইল, ব্যাগ ছিনতাই-ই নয়, এছাড়াও মোটর সাইকেল, সাইকেল চুরির ঘটনা যেমন ঘটেই চলেছে তেমন বাড়িতেও চুরির ঘটনা হামেশাই ঘটে চলেছে। কোতোয়ালি পুলিশ শহরের নিরাপত্তা রুক্ষায় চূড়ান্ত ব্যর্থ। রাতে ত্তেমন কোনও নজরদারিই নেই রাস্তায় রাস্তায়। পুলিশ ভূমিকায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ শহরবাসী।